যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙন। এরই মধ্যে সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গত এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অসময়ে ভাঙন শুরু হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) অধীনে যমুনার ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে ভাঙন থামছে না। এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে বহু স্থাপনা ও ফসলি জমি। এ অবস্থায় তীরে বসবাস করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দাবি, নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে জরুরিভাবে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্দি, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি ও মুন্সিরহাট এলাকায় যমুনার প্রবল ভাঙনের মুখে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনের কারণে এসব এলাকার দেড়শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ধান, পাট, মরিচ, কাউন, তিলসহ নানা ধরনের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ভয়ে এরই মধ্যে ২ শতাধিক পরিবার বসতভিটা থেকে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন।

হলদিয়া ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, পাতিলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির উদ্দিন জানান, বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়ায় তাড়াহুড়া করে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, এবার বর্ষা শুরুর আগে থেকেই হাটবাড়ি ও মুন্সিরহাটে ভাঙন শুরু হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি বিলীন হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাই করিম বলেন, যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা কাজে কোনো অবহেলা বা গাফিলতি নেই।