ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম জেলার রাজস্ব প্রশাসনের অফিস সহায়কের শূন্য পদের পরীক্ষায় তাদের হয়ে প্রক্সি দেন অন্য কেউ। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসেন প্রার্থী নিজে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব শাখাসহ ১৫টি উপজেলা ও নগরীর ৬টি সার্কেল ভূমি কার্যালয়ে অফিস সহায়কের শূন্য পদের মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি ও প্রতারণার দায়ে ১৫ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হলের কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে জরিমানা ও ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক পরীক্ষার্থীদের হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন অন্য পরীক্ষার্থীরা। তবে বুধবার অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় মূল পরীক্ষার্থীরাই অংশ নেন। এরপর তারা আইডি কার্ডে প্রক্সি দেওয়া ব্যক্তির জায়গায় নিজেদের ছবি লাগান। বিষয়টি বুঝতে পেরে সকাল থেকে তাদের ওপর নজরদারি করেন জেলা প্রশাসন।

নজরদারিতে দেখা যায়, লিখিত পরীক্ষার লেখার সঙ্গে তাদের হাতের লেখায়ও অমিল রয়েছে। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন করা হয়। এতে কেউ সুদত্তর দিতে পারেন নি। পরবর্তীতে তারা স্বীকার করেন, তাদের হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অন্যরা অংশ নিয়েছিলেন।

আটককৃতরা হলেন- মো. ইব্রাহীম, নাঈমুল ইসলাম, মুরশেদুল আলম, মো. জুনায়েদ, বিপ্লব সুশীল, মনিদীপা চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন, আলী আজগর, তম্ময় দে, নন্দন দাশ, মান্না দাশ, প্রীতম চৌধুরী, শেখর দাশ, আসাদুজ্জামান ও রহিম উদ্দিন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আহসান জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় ১৫ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। এদের মধ্যে কেউ প্রক্সি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের অফিস সহায়কের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।