খুলনায় আলোচিত ‘মা’ ডেকে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় একমাত্র আসামি এনামুল হক ওরফে টিটোকে খালাস দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি রায় ঘোষণা করা হয়। অভিযুক্ত খালাস পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই কলেজ ছাত্রী।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী বি এম আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আগে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসারসহ ৩ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেন। আদালত তাদের না জানিয়ে রায় দিয়ে দিয়েছেন।

তবে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। বাদীপক্ষকে যুক্ততর্ক উপস্থাপনের জন্য বলা হলে তারা তিন জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।’

আদালত থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি কলেজ থেকে ইজিবাইকে চড়ে বাসায় ফেরার পথে এনামুল হক টিটোর সঙ্গে পরিচয় হয় মেয়েটির। প্রথম পরিচয়েই এনামুল তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন। এনামুল বয়স্ক মানুষ হওয়ায় বিষয়টি মেনে নেন ওই কলেজ ছাত্রী। 

এরপর ১৯ জানুয়ারি তিনি মেয়েটিকে বাড়ির সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। লজ্জায় ও আতঙ্কে এ ঘটনা প্রথমে কাউকে বলেননি কলেজ ছাত্রী। প্রায় দুই মাস পর ওই বছরের ১৫ মার্চ সোনাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন মেয়েটি।

ভুক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রীর মা সাংবাদিকদের বলেন, আসামিপক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার টাকা দিয়ে মামলাটি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম আসামির সাজা হোক। এ কারণেই আইনিভাবে মামলাটি এতোদিন লড়ে এসেছি। কিন্তু কীভাবে যে রায় ঘোষণা করা হলো তা বুঝতে পারছি না। রায়ের পর আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।