সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি খুন, গুম ও হত্যার রাজনীতি শিক্ষা দেয়। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঐতিহ্য হচ্ছে মানবিকতা। শাসনের নামে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের সেবা করে।

বৃহস্পতিবার শেরপুরের নকলা উপজেলার গৌরদ্বার ও পাঠাকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে টেবিল ফ্যান, সৌরবাতি ও নগদ টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল জিয়া। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত খুনের আসামী শফিউল আলম প্রধানকে ক্ষমা করে খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছিল সেই জিয়া। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেয়ালে লিখেছিল, 'সাবাস সাবাস জিয়া ভাই, সাত খুন করেও মাফ পাই, আপনার উদারতার তুলনা নাই।' সেই ইতিহাস অনেকে ভুলে যায়।

আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পার্লামেন্টে বসান এবং রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধী নিজামী ও মুজাহিদদের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন জাতীয় পতাকা। যারা ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে গুণগত পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে মতিয়া বলেন, বিএনপি খুনিদের রক্ষা করে। অন্যদিকে মানবতার মা শেখ হাসিনা পিতৃ হত্যার বিচার করেন, খুনের বিচার করেন। আত্মমানবতার পাশে দাঁড়ান, মানুষের চোখের পানি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার হাতে যতদিন দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

এসময় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আম্বিয়া খাতুন, সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন মতিয়া চৌধুরী নকলা উপজেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে নগদ ১ হাজার করে টাকা, ১৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ী মাদরাসার ১ হাজার ৪৩০ জনকে একটি করে সৌরবাতি এবং প্রাথমিক ও এবতেদায়ী মাদারাসার তৃতীয় শ্রেণীর ১৫ জন করে মোট ২ হাজার ১৪৩ জন শিক্ষার্থীকে একটি করে টেবিল ফ্যান প্রদান করেন।