দীর্ঘদিন ধরে যৌনরোগে ভুগছিলেন লিটন মালিতা (৪০)। চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হয়েছিলেন আব্দুল বারেক (৬২) নামের এক কবিরাজের। বারেক তাকে জানান, যদি লিটন কারও পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ জোগাড় করতে পারেন তাহলে ‘হারানো যৌবন’ ফিরে পাবেন। 

এরপর লিটন ধান কাটার শ্রমিক সেজে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কাজ নেন। গত ২৯ মে রাতে তার সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন সহকর্মী কৃষিশ্রমিক নকিম উদ্দীন। কবিরাজের দেওয়া ‘মহৌষধের’ উপকরণ জোগাড় করতে সেই রাতে তিনি সুযোগ বুঝে নকিমকে খুন করেন। তারপর পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উপড়ে নিয়ে মানিকগঞ্জে পালিয়ে যান। 

গত ৩০ মে যশোরের বাঘারপাড়ার পাইকপাড়া গ্রাম থেকে পুরুষাঙ্গ কাটা এবং ডান চোখ উপড়ানো অবস্থায় নকিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নকিম বাঘারপাড়া উপজেলার ধুপখালী গ্রামের দলিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মাজহারুল ইসলাম পরদিন ৩১ মে বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। খুনের রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নির্দেশে মাঠে নামে যশোর ডিবি পুলিশ। 

গত মঙ্গলবার উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান জেনে যশোর ডিবি পুলিশ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে কবিরাজ আব্দুল বারেককে (৬২) গ্রেপ্তার করে। পরে বুধবার মানিকগঞ্জের ঘিওর থেকে গ্রেপ্তার হন লিটন (৪০)। এ সময় লিটনের কাছ থেকে কেটে নেওয়া পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করা হয়।

লিটন মালিথা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোহাম্মদ জামা গ্রামের হানিফ আলী মালিথার ছেলে এবং আবদুল বারেক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরের মোজাম্মেল হকের ছেলে।

আজ বৃহস্পতিবার যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর লিটন যশোর থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জে যান। গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হাট থেকে তিনি শ্রমিক হিসেবে বিক্রি হন। ঘিওরের চড় বাইলজুরী গ্রামের জনৈক কৃষক জিতু তাকে ধান কাটার কাজে বাড়িতে নেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একজন সদস্য ধান কাটার শ্রমিক সেজে লিটনের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ঘিওর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিটন মালিথা ও আবদুল বারেককে হাজির করা হয়। এ সময় লিটন মালিথা বলেন, তিনি বিবাহিত জীবনে অসুখী। তাই তিনি কবিরাজ আবদুল বারেকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কবিরাজ তাকে পুরুষের লিঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ জোগাড়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি নকিমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর অঙ্গগুলো সংগ্রহ করেন। 

আবদুল বারেক বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে কবিরাজি করছি। লিটন আমার কাছে আট বছর ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমি তাকে ওই তিনটি অঙ্গ জোগাড় করতে বলি। তবে আমি তাকে জীবিত মানুষ হত্যা করে অঙ্গ আনতে বলিনি। বলেছি, যেখানে পোস্টমর্টেম হয়, সেখান থেকেই ম্যানেজ করা সম্ভব।


উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়ার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কৃষিশ্রমিক নকিম উদ্দীন খুন হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও আলামত হিসেবে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ।