শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে, পড়াশোনার মাধ্যমে, খেলাধুলার মাধ্যমে শিখবে। শিক্ষা আর চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থাকবে না। শিশুরা তাদের দক্ষতার সঙ্গে শিখবে। এই শেখায় ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে ভাবলে চলবে না, দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, কর্মজগতের চাহিদা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচলিত শিক্ষা থেকে বের হয়ে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়। তারা যেন কর্মজীবনে দক্ষতার সঙ্গে প্রবেশ করতে পারেন।

তিনি বলেন, একসময় স্বৈরশাসকদের জাতাকলে শিক্ষাঙ্গনে খাতা কলমের পরিবর্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সবসময় অস্থিতিশীল পরিবেশ থাকতো। আওয়ামী লীগের ১৩ বছরের শাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছে। আমরা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র নয়, বইখাতা তুলে দিয়েছি।

সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন থেকে মঙ্গা শব্দটি বিলুপ্ত হয়েছে। এখন আমার এলাকার ইউনিয়ন পর্যায়েও পাকা রাস্তা। প্রত্যন্ত গ্রাম বলে কিছুই নেই। তরুণরা মঙ্গা শব্দটি আর জানে না।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শিশুদের শেখার জন্য পড়াই না, বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য, জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য পড়া। ফলে শিশুরা মুখস্থ করছে আর পরীক্ষা শেষে ভুলে যাচ্ছে। শিক্ষাটা আনন্দের সঙ্গে দিতে হবে। তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। যে শিশু ছবি আঁকতে পারে, তাকে ছবি আঁকতে দেন। যে গান গাইতে পারে, তাকে গান গাইতে দেন। খেলাধুলায় যার দক্ষতা আছে সে খেলাধুলাই করুক।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, জোর করে শিশুদের ওপর পড়ালেখা চাপিয়ে দেবেন না। তাদের স্বাধীনতা দিন।

সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খাঁন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দ্র, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।