হাওর রক্ষা বাঁধকে অবৈজ্ঞানিক আখ্যা দিয়ে এর পরিবর্তে আসন্ন বাজেটে নদী খননে মেগা প্রকল্প গ্রহণের দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, অকাল বন্যায় ফসলহানি থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি চায় হাওরের মানুষ। তাই হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য প্রতি বছর শতকোটি টাকা খরচ না করে নদী খননে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের একটি মিলনায়তনে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত 'হাওরবাসীর বাজেট প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এ মত দেন।

অনুষ্ঠানে আসন্ন বাজেটে হাওরের টেকসই উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুনতাহা রাকিব এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। এ সময় পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযূষ পুরকায়স্থ টিটু উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দু'দফা বন্যায় এ বছর হাওরাঞ্চলে অন্তত ৫০ হাজার পরিবার ফসলহানির শিকার হয়েছে। এসব পরিবারের মানুষ সারা বছরের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা। হাওরের ফসল হারানো পরিবারগুলোকে ২০১৭ সালে বছরজুড়ে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এ বছরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বড় ধরনের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য তাদের বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করতে হবে। এজন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

বক্তারা হাওর এলাকার নদী এবং কিছু বিল খননের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ২০ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প প্রণয়নের দাবি করেন। এ খাতে আসন্ন বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখারও দাবি জানান তারা।

বক্তারা জানান, হাওর এলাকার উন্নয়নে সরকারের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে ধর্মপাশার পথে হাওরে উড়াল সেতু প্রকল্প, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প, সুনামগঞ্জে সীমান্ত সড়ক প্রকল্প, স্থায়ী ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্পের জন্যও এবারের বাজেটে বরাদ্দ প্রয়োজন।

এ ছাড়া দুর্যোগপ্রবণ হাওর এলাকার কৃষকদের জন্য শস্য বীমা চালু, ধান-চাল সংরক্ষণের জন্য হাওরে পর্যাপ্ত গোডাউন নির্মাণ, পরিকল্পিত ডেইরি ফার্ম ও হাঁস পালনের ওপর জোর দেওয়া, হাওরের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অধিক হারে বৃক্ষরোপণ, বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমাতে বজ্র-নিরোধক দণ্ড বসানো, গভীর হাওরে আশ্রয় গৃহ তৈরি, হাওর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো এবং ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের জন্য আলাদা নৌকার ব্যবস্থা করার দাবি জানানা বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বিলগুলোর ইজারার অর্থ কমিয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বিল দখলে রাখার ব্যবস্থা ও জেলেদের স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ঋণ প্রদানের দাবি জানানো হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে হাওরের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান গবেষক মুনতাহা রাকিব ও কাসমির রেজা।