বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থামছেই না। সাত মাস আগে ওই কমিটি করার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতারা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের অবস্থান জানান দিয়ে আসছিলেন। এবার একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সভার আয়োজন করেছে দু'পক্ষ। এ নিয়ে নগর বিএনপিতে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার নগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর আলহাজ দলিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দোয়ার আয়োজন করেছেন পদবঞ্চিতরা। আবার একই সময়ে সেখানে কর্মিসভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর কমিটির অনুসারী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।

পদবঞ্চিত দলের নেতা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে তাঁরা শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠান করতে পুলিশ প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তবে একই স্থানে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ হাওলাদার কর্মিসভা করতে চাইছেন। এ নিয়ে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যে কোনো মূল্যে কর্মসূচি পালন করব।

অন্যদিকে মহানগর কমিটির অনুসারী হানিফ হাওলাদার বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ারের কিছু ভক্ত আছে। তাঁরা নতুন আহ্বায়ক কমিটি মানছেন না। তারা পথভ্রষ্ট নেতা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি তাঁরা বাস্তবায়ন করবেনই। ওই কর্মসূচিতে মহানগরের নেতারাও অংশ নেবেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক দাবি করেন, ওয়ার্ড বিএনপি আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। অনুমতিও পেয়েছে। অন্য পক্ষ অনুমতি পায়নি।

দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অবদান আছে। তাই মহানগর বিএনপির পক্ষ আগে আসায় তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য পক্ষকে ভিন্ন সময়ে কর্মসূচি করার পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে নগরের কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, দু'পক্ষই কর্মসূচি পালনে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটার মতো পরিস্থিতি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

বরিশাল বিএনপিতে তিন দশক একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। সেই ছন্দে পতন হয় গত বছরের ৩ নভেম্বর নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে। এতে সরোয়ারবিরোধীদের পদায়ন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এর পর থেকে সরোয়ার অনুসারীরা পৃথক অবস্থান নিয়েছেন।