রাজধানীর রমনায় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) আবু হাসান মুহাম্মদ তারিকের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত মৌসুমী আক্তার (১১)। গত বুধবার বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
এদিকে মৌসুমীর পরিবার এই মৃত্যু মানতে পারছে না। তার মা ফরিদা বেগমের অভিযোগ, মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ঘটনার সময় বাসায় কেউ ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এএসআই ফজলুল হক বাদী হয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আবু হাসান মুহাম্মদ তারিক বর্তমানে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তাঁর দেহরক্ষী এএসআই ফজলুল হক দুধ নিয়ে রমনার অফিসার্স কোয়ার্টারের ১৪/এ নম্বর শিমুল ভবনের ১৩ তলার বাসায় যান। সেখানে ডাকাডাকি করে কারও সাড়া না পেয়ে ফোনে বিষয়টি অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীকে জানান। তার স্ত্রী অতিরিক্ত সচিব। তিনি ও তার দুই মেয়ে ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রী উপস্থিত হওয়ার পর দরজা ভেঙে সবাই ভেতরে ঢোকেন। বাসার বারান্দার সিলিংয়ে লাগানো লোহার হুকের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মৌসুমীর নিথর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
গতকাল দুপুরে ঢামেক মর্গে মৌসুমীর লাশের ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. শামিমা আফরোজ। এর আগে রমনা থানার এসআই আমেনা খানম লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। তিনি জানান, অজ্ঞাত কোনো কারণে মৌসুমী আত্মহত্যা করেছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামে। বাবার নাম মুক্তার মিয়া।
ময়নাতদন্তের পর এএসআই ফজলুল হক লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যান। নিহতের পরিবারের কেউ মর্গে উপস্থিত হননি।
'মেয়াডারে অরা মাইরা হালাইছে' :মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৌসুমীর মা ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, 'আমার মেয়াডারে অরা মাইরা হালাইছে। তিন বছর ধইরা মেয়া আমার ওই বাসায় আছে। কথা আছাল বছরে তিনবার কইরা মেয়ারে দেহাব, একদিনও দেহায় নাই। ঢাকায় গেলে আমারে পাঁচ মিনিটও থাকবার দেয় নাই।' গতকাল রাতে মৌসুমীর গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বাড়িভিটা ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। স্বজনরা জানান, ঘাটাইল উপজেলা পুলিশের এসআই মাসুদ রানা গৃহকর্মী হিসেবে মৌসুমীকে নিয়ে যান অতিরিক্ত আইজিপির বাসায়। এদিকে স্থানীয়রা মেয়েটির লাশ দাফনে বাধা দেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। নীয় জনপ্রতিনিধি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।