কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, তিন মেয়র প্রার্থীর 'কুৎসিত' কথার লড়াই যেন বেড়েই চলছে। একে অপরকে ঘায়েল করতে 'চোর', 'মাদক কারবারি', 'দুর্নীতিবাজ', 'সন্ত্রাসী' ও 'লুটেরা' আখ্যা দিয়ে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এসব নিয়ে প্রার্থীদের ওপর নাখোশ হচ্ছেন ভোটাররাও।

কাগজে-কলমে পাঁচ প্রার্থী থাকলেও নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে তাঁরা নগরীতে একাধিক পথসভা করেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিতর্কিত বক্তব্যগুলো ভাইরাল হচ্ছে।

নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত নগরীর কাঁসারিপট্টি, চকবাজার, শাপলা মার্কেট, হাউজিং এস্টেট, বল্লভপুর, পুরোনো চৌয়ারা, ধনপুর ও দয়াপুরে কয়েকটি পথসভা এবং উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি নাকি কালো টাকা ব্যবহার করছি, প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থীর এমন বক্তব্য হাস্যকর। আমার বিরুদ্ধে কুমিল্লাবাসীর কোনো অভিযোগ নেই। আমাকে কুলষিত করার জন্য যাঁরা অপপ্রচার করছেন, তাঁরা বিভিন্ন মামলার আসামি।

রিফাত বলেন, তাঁর (সাক্কু) চারদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকে। সম্প্রতি সাক্কু দুর্নীতির মামলা থেকে জামিন নিয়েছেন। মিথ্যা বললে আমাকে চ্যালেঞ্জ করুক, প্রয়োজনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব। সিটি করপোরেশনকে সাক্কু অকার্যকর প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন বলেও দাবি করেন রিফাত। তিনি বলেন, একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা নগরীকে নষ্ট করে ফেলেছেন সাক্কু। এ জন্য নগরবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে তাঁকে। সাক্কু বিরোধী দলের মেয়র হওয়ার পরও কুমিল্লাবাসীর কথা চিন্তা করে সদর আসনের এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অনুদান এনে দিয়েছেন। সেই টাকা লুটপাট করেছেন সাক্কু। একই কাজ চার থেকে পাঁচবার টেন্ডার করেছেন, কুমিল্লাবাসীকে নগরীর সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন। রিফাত বলেন, 'বিজয়ী হলে সাবেক মেয়রের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করব।'

স্বতন্ত্র প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু একই দিন সকালে নগরীর শাকতলা, গোবিন্দপুর, লাকসাম রোড এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করা হচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া এসব বলা ঠিক না। কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। আমার সঙ্গে মাদকসেবীরা ঘোরে- এমন অপপ্রচার করা হয়। এমন লোক আমার সঙ্গে থাকলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিতে বলব।

সাক্কু বলেন, তাঁর (রিফাত) নাম তো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাদক কারবারির তালিকায় এক নম্বরে আছে। আমার নাম তো আসেনি।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারও কথা বলতে ছাড় দেননি। নৌকার প্রার্থী রিফাত ও সাবেক মেয়র সাক্কুকে লুটেরা শ্রেণি অবহিত করে নিজাম বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য কালো টাকা নিয়ে তাঁরা উভয়েই মাঠে নেমেছেন। বিগত দিনে তাঁরা মিলেমিশে লুটপাট করেছেন। এখন তাঁরা একজন আরেকজনকে চোর বলছেন।

নিজাম বলেন, ১৫ তারিখ তাঁর ঘোড়া প্রতীকের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১৬ তারিখ কুমিল্লায় নতুন সূর্য আসবে। দুর্নীতিবাজদের বয়কট করবে মানুষ। নগরীতে দানবীয় শাসনের অবসান ঘটেতে যাচ্ছে। তাঁরা (রিফাত-সাক্কু) দু'জনেই সন্ত্রাস করে এখানে এসেছেন।

মেয়র প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি এমন বক্তব্যের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু বলেন, সবার লক্ষ্য তো ভোটে জয়ী হওয়া; কিন্তু অশালীন শব্দ না উচ্চারণ করেও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার অনেক রুচিশীল শব্দ ছিল। এমন বক্তব্যের কারণে প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মাঝে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।