চুরির মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে চোর চক্র বদলে ফেলত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট। এর পরই বিক্রি করা হতো কম দামে। দুই লাখ টাকার মোটরসাইকেলও ১০-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। পাবনায় ৫টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার পাবনার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নাটোরের সিংড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাবনা থেকে চুরি হওয়া পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- পাবনার আমিনপুর থানার ঘোপসিলন্দা এলাকার লিয়াকত মিয়ার ছেলে আল-আমিন মুন্না (২৮), আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর হিন্দুপাড়ার আক্তারের ছেলে সোহাগ (২৫), পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট এলাকার মৃত সিদ্দিক প্রামাণিকের ছেলে মনির হোসেন (৪০) ও চাটমোহর উপজেলার কৈলমহল এলাকার শাহজাহানের ছেলে শিপন (২৫)।

এ উপলক্ষে গতকাল দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, কয়েক দিন আগে পাবনা সদর উপজেলার মোটরসাইকেল চুরি-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা হয়। এর তদন্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও যুক্ত হয়। শনিবার ভোরে নাটোরের সিংড়া থেকে আল-আমিন মুন্নাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া ৪টি চোরাই ডিসকভারি ও একটি হিরো মোটরসাইকেল।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুন্নার বিরুদ্ধে তিনটি, সোহাগের বিরুদ্ধে দুটি, শিপনের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং মনিরের বিরুদ্ধে তিনটি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন। চোরদের স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, চুরির মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে চোর চক্র মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট বদলে ফেলত। এর পরই তাদের পূর্বনির্ধারিত সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি করত ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ডিবির ওসি আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার আনজুমা আক্তার, ডিবি পুলিশের ওসি আতাউর রহমান খোন্দকারসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।