চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতদের দাফন ও চিকিৎসার জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এক হাজার শুকনো অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা  মো. সেলিম হোসেন রোববার দুপুরে এই তথ্য জানান।

বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩৭ জনের মরদেহ এসেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। 

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী রয়েছেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ২০ জনসহ দেড়শতাধিক লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

শনিবার রাতে প্রথমে আগুন লাগার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাত থেকে রোববার বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ৩৩ জনের মরদেহ পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।

অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আসছে। কোনো অ্যাম্বুলেন্সে দুটি, আবার কোনো অ্যাম্বুলেন্সে চারটি পর্যন্ত মরদেহ আনতে দেখা গেছে। মরদেহ আসা অব্যাহত রয়েছে। তাই নিহত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নিহতদের মধ্যে দুইজন ফায়ার সার্ভিসেরসহ সাতজনের জনের পরিচয় মিলেছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের সাতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কনটেইনার ডিপোতে এখনও আগুন জ্বলছে। এ অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্রায় ২০০ জনের একটি দল।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী দলের যোগ দেওয়ার কথা জানান চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন। একইসঙ্গে নয় সদস্যের একটি কমিটি করার কথাও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, কন্টেইনার ডিপোটিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রয়েছে। এ কারণে আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আমাদের কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

এ ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা ও আহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।