বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীর মাঝে  ইঞ্জিন বিকল হয়ে পণ্যবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় দুই শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার মধ্যরাতে বরগুনা থেকে তালতলী যাওয়ার পথে পায়রা নদীর চাড়াভাঙা-ছোটবগী বাজার নামক এলাকার মাঝ নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

নিখোঁজ শ্রমিকরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা গ্রামের কমল সমাদ্দার(৪৫), লবনগোলা গ্রামের আবদুল খালেক(৭০)। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

ট্রলারে থাকা শ্রমিকরা জানান, শনিবার বরগুনা ঘাট থেকে এফবি মায়ের দোয়া নামের এটি পণ্যবাহী ট্রলার পণ্য নিয়ে আসার জন্য তালতলীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এ সময় ট্রলারে চাল, ডাল, তেল, মরিচ, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কয়েক লাখ টাকার পণ্য ছিল। ট্রলারটি চাড়াভাঙা-ছোটবগী নামক এলাকার মাঝ নদীতে গেলে হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নদীতে ঢেউ থাকায় ট্রলারের মধ্যে পানি ঢুকে ট্রলারটি তলিয়ে যায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে ট্রলারে থাকা মাঝি ও শ্রমিকসহ সাত জন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। পাঁচ জন এ সময় তীরে উঠতে পারলেও দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তীরে ফেরা আবদুর রব মৃধা বলেন, আমরা রাতে পণ্যবাহী ট্রলার নিয়ে বরগুনা থেকে তালতলীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। পরে রাত ১১ টার দিকে চাড়াভাঙ্গা থেকে বগী বাজারের দিকে পাড়ি দিলে হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় নদীতে ঢেউ থাকায় পানি এসে ট্রলারের উঠে যায়।  তখন সেই পানি হালানের (অপসারন) জন্য নিখোঁজ দুই জন ব্রিজের মধ্যে যায়, কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার ঢেউ আসলে ট্রলারটি আস্তে আস্তে পানির নিচে চলে য়ায়। পরে আমরা পাঁচজন বেঁচে ফিরলেও ব্রিজের ভিতরে থাকা ২ জন উঠতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন ট্রলারে থাকা মালামাল জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে। তবে এখনো নির্ধারণ করা হয়নি কতলাখ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তালতলীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনা স্থালে এসেছি। রাতেই একটি ট্রলার নিয়ে নদী থেকে যতটুক সম্ভব পণ্য উদ্ধার করেছি।  তবে এখনো নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।