পলাতক আসামিদের পক্ষে কোনো মামলা পরিচালনা না করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সংশ্নিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে পলাতক ঘোষণা করে গত ১৩ এপ্রিল এক রায় দেন আপিল বিভাগ। গত ১ জুন আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। ১৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত জোবাইদার পক্ষে আদালতে কোনো আবেদন করা হলে তার ওপর শুনানি করা 'আইনসম্মত হবে না'। 

রায়ে বলা হয়েছে, পলাতক আসামি দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে কোনো আবেদন করতে পারবেন না; জোবাইদা রহমান ২০০৮ সাল থেকেই আইনের দৃষ্টিতে পলাতক হিসেবে গণ্য হবেন। ওই রায়ের ধারাবাহিকতায় রোববার হাইকোর্ট বলেন, যেসব আসামি মামলার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না কিংবা পলাতক, তাঁদের পক্ষে কেউ আবেদন করবেন না। পলাতকদের পক্ষে কোনো মামলা আদালত শুনবেন না।

এদিন হাইকোর্টে একটি মামলায় পলাতক এক আসামির পক্ষে জামিন চাওয়া হলে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত এসব কথা বলেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট কোনো পলাতক আসামির পক্ষে মামলা শুনবেন না। পলাতক আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী যদি মামলায় নিয়ে আসেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হবে। আপিল বিভাগের দেওয়া ওই রায়ের কারণে আদালত এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের দুটি এবং তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানের একটি আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে আছে। তাঁরা যেহেতু পলাতক আসামি, তাই ওই আবেদনের পক্ষে কারও মামলা পরিচালনার সুযোগ নেই।