ফরিদপুরের শিবরামপুর রেলস্টেশনে পাথরশেডের দখল নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম জনিসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। 

রোববার দুপুরে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে জনিকে তার লাইসেন্স করা পিস্তলসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আটক অন্য তিনজন হলেন- কোতোয়ালি থানা কৃষক লীগের সদস্য সচিব মোরশেদ আলী প্রিন্স, রানা সর্দার ও আছিরুদ্দিন। তারা জনির পক্ষের।

জানা গেছে, শিবরামপুর রেলস্টেশনে ট্রেনে ভারত থেকে আনা পাথর আনলোড করা হয়। এরপর ওই পাথর সেখান থেকে লরিতে করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। এই পাথর লোড-আনলোড নিয়ে সেখানে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির টাকা লেনদেন হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুনে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর শিবরামপুর রেলস্টেশনে পাথর লোড-আনলোডের অবৈধ চাঁদাবাজির হাতবদল হয়। এ চাঁদাবাজি প্রভাবশালীদের পক্ষে বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় রাকিবুল ইসলাম সাদ্দাম ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আলাউদ্দিন মোল্যা নামে দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম জনির নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক যুবক শিবরামপুর রেলস্টেশনে পাথর শেডের দখল নিতে যায়। এ সময় সাদ্দাম ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল তাদের প্রতিহত করে। এ সময় জনিসহ তার পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আ. জলিল বলেন, জনির পিস্তলের লাইসেন্স থাকলেও ব্যবহারে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। এক দলকে হটিয়ে অপর দল পাথর শেডের দখল নিতে গেলে সেখানে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ আহত চারজনকে আটক করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।