টাঙ্গাইলের বাসাইলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইশা আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের(পিবিআই)। রোববার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের(পিবিআই) পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলো- উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল(১৯), অন্য দুজনের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর।  

জানা গেছে, নিহত ইশা আক্তার খুব ভালো নাচতে পারত। এ কারণে এলাকার যে কোন অনুষ্ঠানে সে নাচত। তিন অভিযুক্ত রাস্তায় প্রায়ই ইশাকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি সে তার মাকে জানিয়েওছিল। কিন্তু তার মা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাননি। গত ২৬ মে দুপুরে ইশার মা তাকে ঘরে একা রেখে ছোট ছেলেকে কোচিং থেকে আনতে যান। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তিন অভিযুক্ত ঘরে ঢুকে ইশাকে ধর্ষণ করে। এতে  ইশা অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অভিযুক্তরা তাকে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে চলে যায়। পরে ইশার মা ঘরে ঢুকে মেয়েকে ফাঁস থেকে নামিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাসাইল থানায় প্রথমে অপমৃত্যু পরে গত ৪ জুন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পিবিআই। ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে তারা।  

পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন জানান, অভিযুক্তদের দুইজন পেশায় গাড়ি চালক। একজন মেকানিক। তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। ইশাকে ধর্ষণ করে ফাঁস লাগিয়ে তারা পালিয়েছিল। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পুলিশের কাছে সব দোষ স্বীকার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।