রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতে গিয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির প্রতিকার চেয়েছেন প্রতিবন্ধী রিকশাচালকরা। সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে ‘প্রতিবন্ধী ঐক্য সমাজ’ এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্য শিল্পী আক্তার।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রতিবন্ধী রয়েছেন। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ করতে গেলে অর্থাৎ রিকশা চালানোসহ অন্যান্য কাজ করতে গেলে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হয়। সকালে অহেতুক জরিমানা, বিকেল বেলা রেকার বিল, রাতে ডাম্পিং। রেকার করলে ১২’শ এবং ডাম্পিং করলে ৫ হাজার টাকা রিকশাপ্রতি জরিমানা দিতে হয়।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অনেক প্রতিবন্ধী ভাইকে রিকশা থেকে নামিয়ে পুলিশ মারধর করছে, অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। আর রাজনৈতিক নেতারা আমাদের প্রতিবন্ধী ভাইদের নানা প্রলোভন দিয়ে প্রতারিত করছেন। আমরা অসহায়। রাষ্ট্রের কাছে এর প্রতিকার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্য এক হাজার ৪ শ' হওয়ায় নির্বিঘ্নে রিকশা চালানোর অনুমতি দেওয়ার নামে সদস্যের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা দাবি করা হয়। রিকশাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে চাঁদা নিলেও তার পরিমাণ হবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। আর সুযোগসন্ধানী মহলটি শারীরিকভাবে সুস্থ লোকদেরও 'প্রতিবন্ধী' দেখিয়ে মাসে অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের পাঁয়তারা করছেন।

সংবাদ সম্মলনে বলা হয়, এলাকার কিছু বখাটে ও নেশাখোর ছেলেদের যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। আমরা প্রতিবন্ধী, আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারি না। তারা আঘাত করলে আমরা প্রতিঘাত করতে পারি না। কারণ আমরা দুর্বল ও অসহায়।

অন্যদিকে, কথিত সাংবাদিক শাহরিয়ার বিদ্যুৎ ও শ্রমিকনেতা এম. এ হামিদ মুন্না আমাদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সংগঠনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে সংগঠনটির উদ্যোক্তা হিসেবে দাবি করছেন। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি আমাদের নানাভাবে প্রলোভন দেখান।  স্বীকৃতি দিতে না চাওয়ায় তিনি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হন। ফলে আমরা আমরা তার শত্রুতে পরিণত হই।

শিল্পী আক্তার বলেন, আমরা ধারণা করছি, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি কৌশলে নানা উপায়ে আমাদের আক্রমণ করে সংগঠনকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাদের উপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, গত আট মাসে আমাদের ওপর ১১ বার হামলা হয়েছে। এ অবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ পরিবেশন করলে তাদেরও হত্যাসহ নানা হুমকি দেওয়া হয় এবং সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যম ঘেরাও করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নিতে বাধ্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ প্রাপ্য সেবাসহ সব ধরনের অধিকার দেওয়া, মানুষ হিসেবে অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিদের মতো সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা, নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র থেকে সঠিক নিরাপত্তা দেওয়া, অসামর্থ্যের কারণে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগঠনের (সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন কেন্দ্র, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পসহ সরকারের সব প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা) যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পদ্ধতি রয়েছে সেই সুবিধা দেওয়া এবং প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যে নানা ধরনের দক্ষতা রয়েছে (গান করা, ছবি আঁকা, বক্তৃতা দেওয়া, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি করা) সেগুলোর যথাযথ চর্চা এবং বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রতিবন্ধী ঐক্য সমাজের সভাপতি আল-মাহমুদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর প্রামাণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাইদুল ইসলাম, অর্থসম্পাদক মো. মোশারফ হোসাইন, মোহাম্মদ জামাল খান ও মো. মোরশেদ আলম।