তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালু হচ্ছে আগামী মাসে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার জেনেভায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী সরকারের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন। আইএলওর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কর্মকর্তা অ্যানি ম্যারি। দু'পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৩১ মে উদ্যোক্তা মালিকপক্ষ বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) পক্ষ থেকে জেনেভায় আইএলওর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইনজুরি স্কিম চালুর বিষয়ে লিখিত ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, জাতীয় একটি এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের খসড়া তৈরিতে সরকারকে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে আইএলও।

এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে যে কোনো শ্রমিক আহত হলে তাঁর চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে এ অর্থ কে বহন করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানতে চাইলে বিইএফের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গতকাল সমকালকে বলেন, এখনও পরীক্ষামূলকভাবে কোনো কোনো কারখানায় এ ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালু আছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, কারখানার মালিক এবং শ্রমিকদের বেতন থেকে সামান্য অংশও এ-সংক্রান্ত তহবিলে জমা করা হয়। কোনো শ্রমিক আহত হলে এ স্কিম থেকে তাঁকে বাকি জীবন সহায়তা দেওয়া হবে। সাধারণত, শ্রমিকের বেতনের ৬০ শতাংশ হিসেবে এ অর্থ গণনা করা হয়।

এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনী সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। শ্রমিক পক্ষের মতামত এবং অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের একটা বড় কাজ কীভাবে সরকার করবে, তা সুস্পষ্ট নয়।