শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করা একটি রোগ। ইউরিন ইনফেকশন ও কিডনি রোগের কারণেও এটা হতে পারে। প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের অসম্পূর্ণতা বা অপরিপক্বতা থাকে ওই শিশুদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ওয়ার্ল্ড বেডওয়েটিং ডে বা বিশ্ব বিছানায় প্রস্রাব দিবস -২০২২ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি- ব্লকের এমআর খান হলে দিবসটি উপলক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নেফ্রোলজি বিভাগ।

সেমিনারে শিশু অনুষদের অধীন বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসকরা অংশ নেন। 

শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, ও অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।  

সেমিনারে বলা হয়, শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করা একটি রোগ। ইউরিন ইনফেকশন ও কিডনি রোগের কারণেও এটা হতে পারে। প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের অসম্পূর্ণতা বা অপরিপক্বতা থাকে ওই শিশুদের। যার ফলে শিশুটি ঘন ঘন প্রস্রাব করে, যখন তখন যেখানে সেখানে প্রস্রাব করে। 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিষয়টি খোদ শিশু ও তাদের মা-বাবার জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর হলেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০-১৫ শতাংশ ছেলেরা পাঁচ বছর বয়সেও বিছানায় প্রস্রাব করে। 

সাধারণত ৬ থেকে ১২ বছরের বয়সের শিশুরা বিছানায় প্রস্রাব করা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

তবে অধিকাংশ অভিভাবক এটি রোগ হিসেবে আমলে নেন না। আমলে না নেওয়ার ফলে শিশুরা কষ্ট ভোগ করে। যার ফলে শিশুটি ঘন ঘন প্রস্রাব করে, যখন তখন যেখানে সেখানে প্রস্রাব করে। 

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুদের অন্যান্য রোগের মত বিছানায় প্রস্রাব করাও একটি রোগ। তবে সচেতনার অভাবে অনেক অভিভাবক এটিকে স্বাভাবিকভাবে নেন, লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু বিছানায় প্রস্রাব করা একটি রোগ হিসেবে চিকিৎসা করা হবে। বিছানায় প্রস্রাব কার মূল কারণ হতে পারে শিশুর ইউরিন ইনফেকশন, কিডনি রোগ। এমন হলে অভিভাবকদের উচিত হবে দ্রুত শিশুকে চিকিৎসা করানো। 

শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করা রোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে সেটি স্ক্রিনিং করে চিকিৎসা দিলে আক্রান্ত শিশুটি দ্রুত সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠবে। 

সেমিনারে জানানো হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নেফ্রোলজি বিভাগে ২০২১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ডি- ব্লকের ৩য় তলায় ব্লাডার ক্লিনিক উদ্বোধন করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। গত অক্টোবর থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ব্লাডার ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিয়ে ৭৯ জন শিশু পুরো সুস্থ হয়েছে। 

এ ব্লাডার ক্লিনিক থেকে প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিছানায় প্রস্রাব করা শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয়। 

এখানে শিশুদের প্রস্রাব করা শেখানো, বিভিন্ন ব্যায়াম করা শেখানো, মনিটাইজেশনসহ নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিশু ও শিশুর অভিভাবকদের কাউন্সিলিং করা হয়। 

বিশ্ব বিছানায় প্রস্রাব দিবস ৩১ মে সারা বিশ্বে পালন করা হয়।