সড়ক দুর্ঘনায় আহত এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর পর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে মৃতের স্বজন ও শিক্ষানবীশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার বিকেলে হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ইউনিট-১ এ এই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা। 

দুর্ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রের নাম রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ (১৭)। তিনি নগরের ইসলামিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। একই দুর্ঘটনায় রিয়াদের দুই বন্ধুও আহত হয়েছেন। তাদের নাম হৃদয় এবং ওসমান গণি। তারা শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

জানা যায়, শনিবার বিকেলে দুই বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে চালনোর সময় আমানতগঞ্জ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় রিয়াদ। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন জনই আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। হৃদয় ও ওসমান গণি চিকিৎসাধীন আছেন। 

রিয়াদের স্বজন মাসুদ ও তনু বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সিরিয়াল ম্যানটেইন করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। আমরা বারবার বলছিলাম রিয়াদের অবস্থা বেশি খারাপ, তাকে আগে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। কিন্ত চিকিৎসকরা কথা না শোনায় চিকিৎসা দেওয়ার আগেই রিয়াদের মৃত্যু হয়। এরপর রিয়াদের বন্ধুদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতাহাতি হয়। কিছুক্ষণ পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সংঘবদ্ধ হয়ে কান্নারত মৃতের স্বজনদের ওপর হামলা ও ব্যাপক মারধর করেন। 

সার্জারি ইউনিটে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক অর্নব খান বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর কলেজ ইউনিফর্ম পরা মৃতের বন্ধুরা দায়িত্বরত চিকিৎসদের কক্ষে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। তারা দুই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালায়। 

শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রাকিন আহমেদ খান বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে ওই রোগীকে বাঁচানোর জন্য। তারপরও মৃতের স্বজন ও বন্ধুরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনার বিচার না হলে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাবো। 

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিন জন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে যে মারা গেছে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের এমন আচরণ কাম্য নয়। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।