মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জবাসীর ভয়াল স্মৃতির দিন আবার ফিরে এসেছে। আজ ১৪ জুন মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৫তম বার্ষিকী। ১৯৯৭ সালের এই দিন মধ্যরাতে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাশের লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্ট, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফুলবাড়ী চা বাগান, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ এবং কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম এ অগ্নিকাণ্ডে ৬৩ প্রজাতির পশুপাখি ধ্বংস হয়। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ ছিল। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা হয় ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। ফিরে আসেনি এখনও প্রাকৃতিক বনের স্বাভাবিক পরিবেশ। টিলার ওপর সবুজ বনায়নের উদ্যোগ নিলেও মাঝেমধ্যে আগুনের পোড়া ডালপালাবিহীন কালো রঙের গাছগুলো অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে।

মাগুরছড়া ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে মাগুরছড়া গ্যাস বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবিতে মাগুরছড়ায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে লাউয়াছড়া ফরেস্ট বিটের অভ্যন্তরে মাগুরছড়া এলাকায় মার্কিন বহুজাতিক তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি অক্সিডেন্টালের মাগুরছড়ায় গ্যাস ফিল্ডের ড্রিলিং কাজের সময় ঘটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এতে ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যায়, যার বাজার মূল্য ৫০ কোটি ডলার।

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়াংয়ের মতে, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক বনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কেউ বুঝতে পারবে না। শুধু যারা এই বনে বসবাস করছেন তারাই তা বুঝতে পারছেন। বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বনের ১৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কখনও পুষিয়ে ওঠার নয়। তবে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সমকালকে জানান, তার কাছে বর্তমানে ক্ষতিপূরণের কোনো আবেদন অপেক্ষমাণ নেই। ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে কেউ তার কাছে আসেনি।