জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ময়মনসিংহে দুদকের মামলা সাবেক ওসি মো. গোলাম সারোয়ারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তার আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সঞ্জিব কুমার সরকার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন

গোলাম সারোয়ার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাখী গ্রামের প্রয়াত মনির উদ্দিন সরকারের ৩ ছেলের মধ্যে বড়। কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিলেও পরবর্তীতে পদোন্নতির ধাপ পেয়ে পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে ২০১৬ সালের দিকে অবসরে যান তিনি।

ওসি থাকাকালীন নিজের ও তিন ছেলের নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন গোলাম সারোয়ার। দীর্ঘ আড়াই বছরের তদন্ত শেষে গোলাম সারোয়ার ও তার সন্তানদের নামে ৩ কোটি ৪৫ হাজার ৩৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই প্রেক্ষিতে দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়।

ওসি হিসেবে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা ও ভালুকা মডেল থানায় কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় গোলাম সারোয়ার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের সমন্বিত ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের ডিএডি মোহাম্মদ এনামুল হক প্রথম তদন্ত শুরু করেন। পরে দুদকের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করেন।

পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৪৫ হাজার ৩৫৪ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক। এর মধ্যে গোলাম সারোয়ারের এক কোটি ৮৪ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩ টাকা, ছেলে এনামুল হকের ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৭ টাকা, নাজমুল হক মারুফের ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৮ টাকা এবং মঞ্জুরম্নল হক মামুনের নামে ২৯ লাখ ২ হাজার ৯২৬ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সঞ্জিব কুমার সরকার সমকালকে বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে দায়ের করা এসব মামলায় জামিন চেয়ে বুধবার স্পেশাল দায়রা ও জজ আদালতে গোলাম সারোয়ার ও এনামুল হক আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে এনামুলের জামিন মঞ্জুর হলেও সাবেক ওসি গোলম সারোয়ারের জামিন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।