বেসরকারি চ্যানেল একাত্তর টিভির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্ত্বরে মানববন্ধন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুবিকে নিয়ে একাত্তর টিভির ভুল সংবাদ পরিবেশনের পর প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি টেলিভিশন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুপ ছিল। কিন্তু তাদের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় প্রশাসন কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে নূর উদ্দিনকে বহিষ্কার করেছে। প্রশাসন কীসের ভয়ে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করে?

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি ফর দি ক্রিয়েটিভ আর্টস (ইউসিএ) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় কুবিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করে একাত্তর টিভি। তবে মে মাসে ইউসিএ কর্তৃপক্ষ কুবি উপাচার্যকে মেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, কালো তালিকাভুক্ত নয়, বরং কুবির শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি নেয় তারা। এরপরই একাত্তর টিভির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে কুবি শিক্ষার্থীরা।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রশাসন একাত্তর টিভির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটতো না। এ দায় শিক্ষার্থীদের নয়, বরং প্রশাসনের। আবার কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে ন্যাক্কারজনক উদাহরণ তৈরি করেছে তারা।

এর আগে গত সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. নূর উদ্দিন হোসাইনকে সাময়িক বহিষ্কার করে কুবি কর্তৃপক্ষ।

নূর উদ্দিনকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে বলেও মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় নূর উদ্দিনের বিভাগ, হল ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন