দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রায়ই পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। যখন-তখন রিজার্ভ ট্যাংকের পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ভবনে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো দিন দিনে একাধিকবার এ ঘটনা ঘটছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। তাদের হাসপাতালের নিচতলার গভীর নলকূপ ও পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। পাঁচ তলা ভবন পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে পানি তুলতে হয় স্বজনদের।

শেবাচিম হাসপাতালের ডি ব্লকের (মেডিসিন-২) একাধিক রোগীর স্বজন জানান, শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বাথরুমে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ১০টায় পানি সরবরাহ শুরু হলেও দুপুর ১টায় আবারও সংকট দেখা দেয়। এতে ওয়ার্ডের শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়েন। স্বজনরা জানান, গত ৩ দিন ধরে একই ঘটনা ঘটছে। একই তথ্য জানিয়েছেন হাসপাতালের লেবার ও গাইনি ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনরা।

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের শেবাচিম হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, গত কয়েক দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় হাসপাতালে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরবরাহ পাইপলাইনে ত্রুটি থাকায়ও সংশ্নিষ্ট ওয়ার্ড বা ইউনিটে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের মেডিসিন, লেবার ও গাইনি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি। সেখানে ধারণ ক্ষমতার তিন গুণ রোগী থাকে নিয়মিত। যে কারণে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে রিজার্ভ ট্যাংকের পানি দ্রুত সময়ে শেষ হয়ে যেতে পারে।

প্রকৌশলী ফিরোজ বলেন, ডি ব্লকের মোটর আলাদা, সেখানে ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা থাকায় সার্বক্ষণিক পানির প্রয়োজন। ওইসব ওয়ার্ডে পানি সংকট কেন হচ্ছে, তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে এভাবে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানকার বাথরুমের অবস্থাও বেহাল। এর নেপথ্যে আছে সংশ্নিষ্টদের দায়িত্বহীনতা।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন। তাদের সঙ্গে স্বজন থাকেন দ্বিগুণ। এই বাড়তি লোকের চাপ বহন করার সামর্থ্য নেই গণপূর্ত বিভাগের।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য স্বীকার করে বলেন, পানি সংকট হাসপাতালে রয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পানি সংকটের বিষয়টি আলোচনা হয়। সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি সংকট নিরসনে সরবরাহ পাইপলাইন সংস্কার, নতুন মোটর স্থাপন, বাথরুম সংস্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিছু কিছু ওয়ার্ডে পানি সংকট বেশি দেখা দিচ্ছে বলে স্বীকার করেন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম।