গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তিন চাকার যানবাহন ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মহানগর পুলিশ। ফরিদপুর, মাগুরা ও বরিশাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন জানান, এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পরিচয়ে তিন চাকার যানবাহন ছিনতাই করে আসছিল। তারা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ১৩ জুন বরিশাল বিমানবন্দর থানার আওতাধীন দোয়ারিকা এলাকায় একটি ইজিবাইক ছিনতাই মামলার সূত্র ধরে চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীরা হলো- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড় গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন মুন্সী (৪০), ফরিদপুরের সালথা উপজেলার উত্তর চণ্ডীবর্ধী গ্রামের জহির হোসেন মোল্লা (৩৫), পটুয়াখালী পৌর শহরের শিমুলবাগ এলাকার সোহেল হাওলাদার (৪০), মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার উত্তর বিশ্বাসপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম (৪০) ও মহসীন শেখ (৪৮)।

বিএমপি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ জুন বিকেলে ইজিবাইকচালক কাজী কামাল বাবুগঞ্জের বকুলতলা এলাকায় পৌঁছলে ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ছিনতাইকারী ইজিবাইকে ওঠে। সে আসামি ধরার কথা বলে ইজিবাইক নিয়ে বিমানবন্দরের মোড়ে যেতে বলে। তখন সেখানে মোটরসাইকেলে আরও একজন ছিল। সেও ইজিবাইকের পেছনে পেছনে যেতে থাকে।

বিকেল ৫টার দিকে সাবেক দোয়ারিকা ফেরিঘাট সড়কে 'ভাই ভাই স্টোর' নামের রড-সিমেন্টের দোকানে পৌঁছালে ইজিবাইকের আরোহী ব্যক্তি চালককে থামাতে বলে। সেখানে আগে থেকে আরও দু'জন অপেক্ষা করছিল এবং মোটরসাইকেল আরোহীও সেখানে পৌঁছে যায়। এরপর তারা সকলে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে হালকা নাশতা খায়। ইজিবাইকচালক কামালকেও বিস্কুট ও পানি খাওয়ায়। এতে কামালের ঘুম ঘুম ভাব এলে তিনি বুঝতে পারেন যে, খারাপ লোকের কবলে পড়েছেন। কামাল ইজিবাইক চালু করে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারীরা চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং কামালকে মারধর করে। এ সময় কামালের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. রায়হান জানান, এ ঘটনায় ইজিবাইকচালক কামালের স্ত্রী তানিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্ত করে। সাখাওয়াত ও জহিরকে শুক্রবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে সোহেলকে বরিশাল নগরের খেয়াঘাট থেকে এবং আমিরুল ও মহসিনকে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।