কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র এবং ধরলা নদীর পানি বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সকালে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারীর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর ফেরীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এর ফলে জেলার ৯ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের ২৮৪ টি গ্রামে ২৭ হাজার ১৯৭টি পরিবারের ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮৮ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা কবলিত এলাকার অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। অনেকে ঘরের ভিতর ও আঙ্গিনায় মাঁচা পেতে এবং অনেকে নৌকার মধ্যে বসবাস করছেন। বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার সংকটে পড়েছেন তারা। রান্না করার ব্যবস্থা না থাকায় শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে অনেকের।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, জেলায় বন্যার্তদের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন উপজেলায় ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত নাগেশ্বরী উপজেলায় ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১১০টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর ও আশেপাশে পানি উঠায় শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১১টি, রাজিবপুরে ৪৪টি, চিলমারীতে ২৬টি, উলিপুরে ২০টি, নাগেশ্বরীতে ১টি এবং রাজারহাটে ১টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।  এছাড়া ২৩ টি মাধ্যমিক, ১টি কলেজ ও ৭টি মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭১১ হেক্টর বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩১২ হেক্টর আমন বীজতলা, ২ হাজার ৭২৬ হেক্টর আঊশ ধান, ৮ হাজার ৯৯৬ হেক্টর পাট, ১১০ হেক্টর তিল, ১ হাজার ৩২৪ হেক্টর শাকসবজি, ৩৫ হেক্টর চিনা, ৪০ হেক্টর ভুট্টা, ৬০ হেক্টর চিনাবাদাম ও ১০৮ হেক্টর মরিচ ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে।