রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ চক্রবর্তী। চাকরির সুবাদে থাকেন ঢাকায়। তবে মাঝেমধ্যেই রাজবাড়ীতে আসতে হয় তাঁকে। ঢাকা থেকে বাসে আসার সময় পাটুরিয়া এবং ফেরার সময় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে থেকে শিকার হন প্রচণ্ড ভোগান্তির। এ দুর্ভোগ শুধু তাঁর নয়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপার সব বাসের যাত্রীর। পদ্মা সেতু চালু হলে এই নৌরুটে কমবে যানবাহনের চাপ, কমবে ভোগান্তিও। অল্প সময়ের মধ্যেই ফেরি পার হতে পারবেন তাঁরা। রাজবাড়ীবাসীর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সবাই। একই সঙ্গে আছে তাঁদের দাবিও। পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ী থেকে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রাজবাড়ী থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ১১২ কিলোমিটার; গাবতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ১০৮ কিলোমিটার। রাজবাড়ী থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। মাঝখানে পদ্মা নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাট মাত্র তিন কিলোমিটার পথ। এই তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে লঞ্চে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট এবং ফেরিতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে ঘাটে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বছরের বেশিরভাগ সময়ই লেগে থাকে যানজট। পদ্মা সেতু চালু হলে দৌলতদিয়া ঘাটে পরিবহনের চাপ থাকবে না। কারণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলার পরিবহনগুলো পদ্মা সেতু হয়েই পার হবে।

রাজবাড়ীর সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঢাকা এখন আমাদের আরও কাছে চলে এসেছে। ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাওয়ায় সময় কম লাগবে। যদি কখনও ঘাটে সমস্যা হয়, তাহলে পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ীর মানুষ ঢাকা যেতে পারবে সহজেই।

রাজবাড়ী থিয়েটারের আহ্বায়ক বাবলা চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু সরকারের বিশাল এক সাফল্য। আমরা রাজবাড়ীবাসী এতে খুবই খুশি। তবে পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হলে রাজবাড়ী থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেন একটি ট্রেন দেওয়া হয়। রাজবাড়ীর মানুষ যখন-তখন ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে।
রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেন, শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজবাড়ীর সম্পর্ক ভালো হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আবদুল জব্বার বলেন, পদ্মা সেতু রাজবাড়ীর চিত্র পাল্টে দেবে। এ জেলায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে; বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে আমরা আমাদের দাবি অব্যাহত রাখব। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় যেন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করা হয়।