দুর্নীতির অভিযোগে পাবনার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খ. ম. কামরুজ্জামান মাজেদকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও পৌরসভার অর্থ তছরুপসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। খ. ম. কামরুজ্জামান মাজেদ ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

সোমবার দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পাবনার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ পাবনার উপপরিচালক মোখলেছুর রহমানের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ পাবনার উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের স্থানীয় ব্যক্তিরা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। দুদক অভিযোগগুলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

তদন্তে বিভিন্ন রাস্তা, ব্রীজ নির্মাণসহ বেশ কিছু অভিযোগে দুর্নীতির বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া যায়।

 গত ২৪ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে রোববার ১৯ জুন তাকে বরখাস্ত করার আদেশ দেয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়া মেয়র খ. ম. কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমার কাজকর্ম সব দৃশ্যমান। আমি তিনবার মেয়র হয়েছি। আমার দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার মনোনয়ন বাতিলের জন্য নির্বাচনের আগে কিছু অভিযোগ দিয়েছিলো। সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনও সত্যতা না পেলেও আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

গত বছরের জানুয়ারিতে পাবনার ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খ. ম. কামরুজ্জামান মাজেদ তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।