কুড়িগ্রামে ধরলা নদীতে অত্যন্ত ধীর গতিতে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়েছে। এই দুই নদীর ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা প্রলম্বিত হওয়ায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানিয়েছেন, জেলার নয় উপজেলার ৪৯ টি ইউনিয়নের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলের ৩১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে ৩৫ হাজার ৪০৩টি পরিবারের ১ লাখ ৪১ হাজার ৬১২ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে বন্যার কবলে পড়ায় জেলার ৩২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৪৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় ২৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ আছে। এর মধ্যে সদরে ১৮টি, ভূরুঙ্গামারীতে ৭টি, উলিপুরে ৫৮টি, চিলমারীতে ৩৮টি, নাগেশ্বরীতে ৭৯টি, ফুলবাড়ীতে ৬টি, রাজারহাটে ৩টি, রৌমারীতে ৬৮টি এবং রাজিবপুরে ১৭টি বিদ্যালয় রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম জানান, ২৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮টি মাদ্রাসা ও ১টি কলেজ বন্যাকবলিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ আছে।