যমুনায় পানি বৃদ্ধি ও উজানের ঢলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ইউনিয়নের ভেকা, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ও পাকুরতলা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি ঘরসহ অন্তত ৪৫০ টি বাড়িঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী তীরে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার পাকুরতলা (আশ্রয়ণ) প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ।

সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে আশ্রয়স্থল হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গরু ছাগল এবং শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ অন্যের বাড়িতে এবং কেউ বা বাঁধের ওপরে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে।  ভাঙ্গনকবলিত এলাকার মানুষ জানান, এ পযর্ন্ত তাদের কাছে কোন সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে জালালপুর গ্রামের নদীভাঙনে ঘর হারানো রহম মোল্লা, রজব আলী,বাবু মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, দিনদিন হলো তাদের বাড়িঘর নদীর মধ্যে চলে গেছে । নদীর ধারেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কোনরকমে দিন কাটাচ্ছেন তারা । নেতা বা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কেউ তাদের জন্য সাহায্যে সহযোগিতা নিয়ে আসেননি।

জালালপুর ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহির উদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় যমুনা নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। এতে মূহুর্তে যমুনা পাড়ের ২৫টি বাড়িঘর রাতের অন্ধকারে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জীবন নিয়ে সবাই বাড়িঘর থেকে বের হতে পারলেও অনেকেই জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারেননি। চোখের সামনে সবকিছু যমুনা নদীতে তলিয়ে গেছে। তখন থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। গত ৭/৮দিনে ভেকা, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ও পাকুরতলা গ্রামের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বাড়িঘর যমুনা নদীতে ভেঙ্গে গেছে । দিশেহারা মানুষ এখন জনপ্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চাইছেন ।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোন সাহায্য সহযোগিতা হাতে পাওয়া যায়নি। পেলে তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম বুধবার সমকালকে বলেন, ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে ইতিমধ্যে ২০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ এসেছে । যা দুই একদিনের মধ্যেই ভাঙ্গনকবলিত কয়েকটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হবে । পরে তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা হবে।