মিঠামইন উপজেলার পানিবন্দি বহু মানুষ নিজ নিজ বাড়ির ধান, চাল, গবাদি পশু রক্ষায় পড়ে রয়েছেন। কেউ কেউ নিরুপায় পায় হয়ে গবাদি পশু ও জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। কারণ, রাখার জায়গা নেই। বাড়ির উঠানে ও ঘরে পানি। বাঁশ, বালুর বস্তা ও খড় দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ অনেকে। ঢেউয়ে মাটি সরে গিয়ে পানি ঢুকে পড়ছে বাড়িঘরে।

কথা হয় গোপদীঘি দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে রহিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি শরীফপুর এলাকার মৃত মুক্ত মিয়ার স্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছেন তিনি। ৫০ মণ ধান ছিল। বন্যার কারণে টানাটানিতে ২০ মণ নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি। এ কারণে বিদ্যালয়টিতে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। পানি শুকিয়ে গেলে কীভাবে ঘর ঠিক করবেন, সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে মানুষ এসে খাবার দিয়েছেন। এই সামান্য খাবারে কিছুই হবে না। তবে ইউপি চেয়ারম্যান খোঁজখবর নিচ্ছেন। সাহায্য-সহযোগিতাও করছেন তিনি।

গোপদীঘির হাজী ছুরত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় রোকন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি রজবপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। তিনি জানান, তাঁর বাড়িঘর ডুবে গেছে। এবার ৩০০ মণ ধান উৎপাদন করেছেন। এর মধ্যে দেড়শ মণ পানিতে নষ্ট হয়েছে। এই ধান কিনবেন না পাইকারি ক্রেতারা। তাঁর দাবি, পরিবারে সাত-আটজন সদস্য। ঋণ রয়েছে। বন্যা না হলে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতেন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন- এসব নিয়ে চিন্তায় ঘুম হয় না। সামান্য সরকারি সাহায্য দিয়ে কিছুই হবে না। অবশিষ্ট ধান আর গরু নিয়ে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ধানের দাম নেই, গরুরও খাবার নেই।

ঘাগড়া ইউনিয়নের শিহারা গ্রামের আবদুল মালেক, ইসমাইল মিয়া নিজেদের পরিবার, ধান, চাল নিয়ে বিপদে রয়েছেন। তাঁরা জানান, বাড়িতে পানি। গরু-বাছুর নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িত আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। রাত হলে বাড়িঘর পাহারা দিতে হয়। কারণ চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আকাশ বসাক বলেন, ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ব্লিচিং পাউডার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেরাও বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছেন।