সিলেটের বিয়ানীবাজারে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার আশিভাগের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানববেতর জীবন যাপন করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ৯৮৭টি পরিবারের প্রায় ৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক নূর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার একই সময়ে নদীর পানি একই অবস্থায় ছিল। একই সাথে সুরমা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুত করা ৫৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৮৭ পরিবারের ৫ হাজার ৯২২জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এসব পরিবারের ৬২০টি গবাদিপশুও আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে রাখা হয়েছে। গবাদিপশুর মধ্যে ৪১১টি গরু এবং ২০৯টি ছাগল রয়েছে।

এদিকে, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে নৌকা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। মাথিউরা ইউনিয়নের মিনারাই এলাকার আব্দুল বাচনকে পরিবারের সদস্যদের নৌকাযোগে পৌরশহরে আসতে দেখা গেছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে। বৈরাগী ও কাকরদিয়া এলাকায় প্রধান সড়কদিয়ে নৌকা ও টেক্টর দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকনূর মুড়িয়া, লাউতা, মোল্লাপুর ও মাথিউরায় ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে।