গত ২৪ ঘন্টায় মেঘনা,খোয়াই, কালনি,সুতাং নদীর পানি বেড়ে নতুন করে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের খাটখাল, বৈরাটি এবং অষ্টগ্রামের কদম চাল,সমারচর,খয়েরপুর, কলিমপুর বালি,বাজুখা,কলাগাও,গয়েসপুর,আব্দুল্লাহ পুর নতুন হাটী অন্তত এক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বন্যার পানিতে নতুন করে অষ্টগ্রামের খয়ের পুর ও কদম চালের অন্তত শতাধিক নতুন বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানির তোড়ে এসব বাড়ি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। শুধু আবদুল্লাহ পুর ইউনিয়নে ৫০০ পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া কদম চাল বাজার, খয়ের পুর বাজার, কলিমপুর বাজার মাদ্রাসা,মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু কিছু গ্রাম পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তারা আশ্রয় কেন্দ্রে না উঠে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ধান, চাল ও গবাদিপশু নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছে।

আবদুল্লাহ পুরের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন জানান,বন্যা শুরু হওয়ার পর মাত্র একদিন অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান  শহীদুল ইসলাম জেমস ও ভাইস চেয়ারম্যান মানিক দেবসহ নেতাকর্মীরা এসে পরিস্থিতি দেখে যান।  তার অভিযোগ, অষ্টগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আসেননি। অন্যদিকে অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে সরকারি কর্মকর্তারা আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে পানি বন্দি পরিবারের জন্য মাএ ৩০ ব্যাগ এাণ নিয়ে আসেন যা প্লাবিত হওয়া গয়েসপুরে বিতরণ করা হয়। সামান্য এাণ দেওয়া নিয়ে বানভাসিদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

এদিকে, বন্যার পানিতে অষ্টগ্রাম সদর সহ কলমা,শরীফ পুর,ইকুরদিয়া,বাঙ্গালপাড়া,আবদুল্লাহ পুর,ভাতশালা,কাস্তুল,দেওঘর,সাবিহানগর,আদমপুর,পূর্ব অষ্টগ্রাম সাপান্তর, চৌদন্ত ,কাকোরিয়া,হালাল পুর,আলীনগরের ১০ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব পরিবার গত ১ সপ্তাহ ধরে পানি বন্দি রয়েছেন। এই উপজেলার আবদুল্লাহ পুর ইউনিয়নের বাজুকা, মুছি পাড়া গ্রামও প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এই পাড়ার রজনী রবি দাস,লক্ষী রানী রবি দাস,নন্দলাল রবি দাস জানান, তাদের ঘর বাড়ি পানিতে ভাসছে। খুব কষ্টে পানির ওপর মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন। এ পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য পাননি।

একই ইউনিয়নের আবদুল্লাহ পুর গ্রামের মিনারা আক্তার বলেন,সরকার আমাদের কোনো সাহায্য দেয় না।ঘর পানির মধ্যে ভাসছে।চেয়ারম্যান কত দিব সাহায্য।এক সাপ্তাহ যাবৎ পানির সাথে যুদ্ধ করে বাস করতাছি। তার প্রশ্ন, ঘরের জিনিস পত্র লইয়া কই যামু?

মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,  গত বুধবার সকালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম,ইটনার ইউ,এন,ও নাফিসা আক্তার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো.মতিউর রহমান,সদর চেয়ারম্যান এ্যাড-শরীফ কামাল ও গোপদীঘির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন গোপদীঘি ইউনিয়নের ৭নং দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি আরও জানান, একই দিন বিকালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউনন্সিলর মি ইয়ান হুয়ালং ও কিশোরগঞ্জ ৪- আসনের এম,পি প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক মিঠামইনের গুচ্ছ গ্রাম হামিদ পল্লী ও নবাব পুরে এাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় মিঠামইন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন পি,আই,ও মোল্লা খলিলুর রাহমান,জেলা পরিষদ সদস্য সমীর কুমার বৈষ্ণব, সদর ইউ, পি,চেয়ারম্যান শরীফ কামাল উপস্থিত ছিলেন। পরে অষ্টগ্রামে ঐতিহাসিক কুতুব মসজিদ পরিদর্শন করে চীনা  প্রতিনিধি দল।