খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন তার অধীনে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা। 

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ তদন্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৮ দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন তারা। 

লিখিত অভিযোগে স্বাস্থ্য সহকারীরা উল্লেখ করেন, করোনাকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার ঝুঁকি ভাতা বরাদ্দ দিলেও স্বাস্থ্য সহকারীরা তা পাননি। ২০২১ সালের ৬ ও ৮ নভেম্বর এই দুদিনের করোনা টিকাদান বাবদ প্রতি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী ছিলো ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু তাদের দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৭০০ টাকা। 

পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানী বাবদ ৩৮ হাজার হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি টিম টিকা প্রদান করেছেন। প্রতি টিমে ৩ জন স্বেচ্ছসেবী ও ২ জন টিকাদানকারী ছিল। টিকা কর্মীকে ৫০০ টাকা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের ৩৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের কথা থাকলেও কেউ টাকা পায়নি। 

উপজেলায় টিকা প্রদানের পর যারা অনলাইনে আপলোড করেছেন, তাদের কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদানকারী, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করা হয়নি। 

লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। টাকা ব্যতিত প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা দেন না। ২০২১ সালের জুন মাসের কর্মচারীদের বিলের কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। টাইম স্কেলের জন্য তার অনুগত অফিস সহায়ক টাকা চাইছে। 

অভিযোগের বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার সমকালকে বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অনেক বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, কিছু এখনও বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন তদন্ত করে গিয়েছেন। তিনি কোনো সত্যতা পাননি।

তিনি বলেন, নানা অপকর্মে বাঁধা দেওয়ায় স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি তার অনুগত সহকারীদের দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছেন। সঠিকভাবে তদন্ত করলে এর একটিরও প্রমাণ পাওয়া যাবে না। 

এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ সমকালকে বলেন, পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করতে গেলে স্বাস্থ্য সহকারীরা আমাকে বিষয়গুলো মৌখিকভাবে জানিয়েছে। দেখা যায়, বরাদ্দ না থাকায় এবং কম বরাদ্দ থাকায় অনেক বিল পরিশোধ করা যায়নি। এছাড়া অন্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়ম পাওয়া গিয়েছিল, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।