কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৬ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামির মধ্যে রাজিব গান্ধী, গোলাম রব্বানী, ফিরোজ হাসান ওরফে মোখলেছ, মাহাবুব হাসান মিলন ও আবু নাছির ওরফে রুবেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি রিয়াজুল ইসলাম মেহেদী এখনো পলাতক রয়েছেন। এ মামলার আরেক আসামি সাদ্দাম হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কঠোর নিরপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। বিকেল পৌনে ৩ পর্যন্ত ৩০ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান জেলা ও দায়রা জজ। রায়ে ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি বিস্ফোরক মামলার একটি ধারায় রাজিব গান্ধী, রিয়াজুল ইসলাম মেহেদী ও পলাতক গোলাম রব্বানীকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর আরেকটি ধারায় এই ৩ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় রাষ্ট্র পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামিদের পক্ষে লিগ্যাল এইড নিয়োজিত অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ সকাল ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের গড়েরপাড় এলাকায় প্রাতঃভ্রমণের সময় খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাহুল আমিন আজাদ বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরেকটি মামলা দায়ের  করেন।

একই বছরের ৫ নভেম্বর দুই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর আদালতে মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। দুই মামলার মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।