ভোলার চরফ্যাসনের জান্নাতুল মাওয়া রুপা নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত রাতে চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের পূর্বমাদ্রাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুপা চরফ্যাসন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অলিউল্যাহ হাওলাদারের মেয়ে। তার স্বামী চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের পূর্বমাদ্রাজ গ্রামের ইমাম হোসেন।

স্বামীর পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, রুপার স্বামী কর্মস্থল থেকে মধ্যরাতে বাসায় ফিরে শয়নকক্ষের আড়ায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে ইমাম হোসেনের সঙ্গে রুপার বিয়ে হয়। ইমাম হোসেনের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবার যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় রুপাকে মানসিক নির্যাতন করতেন তারা। গত শনিবার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যান রুপা। এর চার দিন পর বুধবার দিবাগত রাতে রুপার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

রুপার বাবা অলিউল্যাহ হাওলাদার অভিযোগ করেন, স্বামী-শাশুড়ি মিলে পরিকল্পিতভাবে রুপাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।

চরফ্যাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার শাহা জানান, গলায় হালকা দাগ ছাড়া শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অপমৃত্যুর একটি মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।