দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাসিন্দাদের জন্য শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুট এক আক্ষেপ আর দীর্ঘশ্বাসের নাম। বর্তমানে ফেরি দিয়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে খরস্রোতা পদ্মা নদী পার হতে সময় লাগে গড়ে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। স্রোত ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেই পথ আরও দীর্ঘায়িত হয়। তাতে বাড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি। আর নাব্য সঙ্কট ও বৈরি আবহাওয়া কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে দুর্ভোগ এবং ভোগান্তি সকল মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারাসহ এই রুটে চলাচলরত যাত্রীরা পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এসব দুর্ভোগ আর ভোগান্তি অতীত হওয়ার পথে। সঠিক সময়ে যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অপেক্ষা কেবল উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার। শনিবার সকালে বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন। এরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের এই সেতুটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। আর তাতে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি পার হওয়ার যাবে মাত্র ৫ মিনিটে!

পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে গাড়ি চলবে। এজন্য সেতুর উপর দিয়ে চলাচলরত যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহন চলাচলের গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার। অন্যদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে সার্ভিস লেন যুক্ত হওয়ায় কোনো সর্বনিম্ন গতিসীমা নেই। এর আগে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট লক্ষ্য করা গেলেও এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনের পর থেকে সেই দৃশ্যও এখন অতীত হতে বসেছে।

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে দায়িত্বরত বিআইব্লিউটিসি কর্মকর্তা আব্দুল আলীম, সাফায়েত আহমেদসহ একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এবং ঘাটে যানজট না থাকলে ফেরি দিয়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পদ্মা পাড়ি দিতে সময় লাগছে এক ঘণ্টা ১০ থেকে ২০ মিনিট। আর ছোট ফেরিতে সময় লাগছে দেড় ঘণ্টার মতো।

কর্মকর্তারা আরও জানান, কোনো কারণে নাব্যতা সঙ্কট তৈরি হলে এবং ঘনকুয়াশা ও বৈরি আবহাওয়া থাকলে পদ্মা পারাপার হতে কত সময় লাগে তা বলা মুশকিল।

শ্রীনগরের হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই এখন মাওয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সার্ভিস লেন যুক্ত হওয়ায় কোনো সর্বনিম্ন গতিসীমা নির্ধারণ করা নেই। স্লো মুভিং যানবাহন সার্ভিস লেন দিয়ে চলাচল করবে।