আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে সারা দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ঝুলতে দেখা যায়। এ নিয়ে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, হতদরিদ্র হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধ পাওয়া ব্যক্তি কিভাবে তার বাড়িতে এসি লাগিয়েছেন তিনি? উত্তরটা খোঁজার জন্য জানতে হবে ওই ঘরের বাসিন্দার পরিচয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ঘরের মালিকের নাম মো. ইকবাল সেপাই। তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ নম্বর বালিপাড়া ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক। তার বাবা আলমগীর সেপাই বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক।

রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হওয়ার সুবাদে দলীয় সুপারিশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ইকবাল বর্তমানে ড্রেজিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি মাসে তার আয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। চলাফেরা করেন প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলে। তার চলাফেরা কিংবা বেশভূষা দেখে বোঝার উপায়ই নেই তিনি দরিদ্র মানুষ।

এ বিষয়ে ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমকালকে বলেন, এখন আমি ব্যবসা করি। এর আগে যখন আমার সমস্যা ছিল তখন আমি ঘর পেয়েছি। আমি গরম সহ্য করতে পারি না। তাই ঘরে এসি লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমাকে সাংবাদিকসহ অনেকে ফোন করছে। আমার টাকায় এসি লাগিয়েছি। এতে দোষের কী হলো!

জানা যায়, ইন্দুরকানী উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৪৪টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘরে বাসিন্দারা বসবাস করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্বচ্ছলকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক অসহায় পরিবারই এখনো জড়াজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার ৩ নম্বর বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন বয়াতি জানান, মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির (জেপি) স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোটায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। সেখানে এসি লাগিয়েছি কিনা জানিনা।

আশ্রয়ণের প্রকল্পে ঘর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গৃহহীনের তালিকায় ইকবাল সেপাই আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। ওই ঘরে সে পুরাতন একটি এসি লাগিয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম জানান, ঘর যখন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তখন আমি ছিলাম না। ইকবাল নামে এক ব্যক্তি তার আশ্রয়ণের ঘরে এসি লাগিয়েছে বলে শুনেছি। ঘর বরাদ্দে কোনো অসংগতি আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।