পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার উপজেলার দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে। আহত ছাত্ররা এদিন বিকেলে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।

আহতরা ছাত্ররা হচ্ছে- বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. রানা খান, মো. শামীম মোল্লা, ইসমাইল শেখ, নাঈম শেখ, নবম শ্রেণির লিখন শেখ, সাকিব শেখ, হৃদয় মিস্ত্রী ও অষ্টম শ্রেণির ইব্রাহিম শেখ। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক সাহা সমকালকে এসব তথ্য জানান।

আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, বুধবার টিফিনের সময় তারা বিদ্যালয় মাঠে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ফুটবল খেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের ধর্ম শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক আমাদের পিটিয়ে আহত করেন। 

শিক্ষার্থীরা বলে, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন না করায় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের  তর্কবিতর্ক বাঁধে। এ নিয়ে তাদের ওপর শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

আহত শিক্ষার্থীদের একজন সমকালকে বলেন, মো. আব্দুর রাজ্জাক স্যার আমাদের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নেয়। এ সময় আমরা অপরাধ স্বীকার করে প্রথমে প্রধান শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাই। পা ধরা অবস্থায়ই ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ইসমাইল, নাইম, সাকিব ও লিখকে বেত্রাঘাত করেন। পরে বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে রানা, শামীম, ইব্রাহিম ও হৃদয়কে এ ৪ জনকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। 

অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামের নাজিরপুর উপজেলা আমীর। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের সামান্য হেদায়েত করা হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করতে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছেলেরা অন্যায় করেছে সে কারণে তাদের একটু শাসন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ছিদ্দিকুর রহমান ফকির বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাট করে দেওয়ার চিন্তা চলছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহিদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।