দেশে করোনা সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। করোনার ওমিক্রনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে ৯ দিনে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবুও সচেতন নয় জনগণ। শহর-গ্রাম সর্বত্রই মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ৬ দফা সুপারিশ দিয়েছে।

সংক্রমণের প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ২৭ মাসে কয়েক দফায় সরকার নির্দেশনা দিলেও এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি বেশ উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরা ও টিকা নেওয়ার বিকল্প নেই। তাই সরকার থেকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নানা সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এতে দৃশ্যমান অগ্রগতির দেখা মিলছে না বললেই চলে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১ হাজার ৬৮৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা চার মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন ১ হাজার ৯৫১ জন কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এ নিয়ে এক দিন ছাড়া টানা ২৪ দিন নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের দিন বুধবার ছিল ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে কারও মৃত্যুর সংবাদ দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১৮৫ জন রোগী।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা পালন করে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। তবে জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ বিষয়ে সরকারকে নজর দিতে হবে।

এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, করোনা বাড়ছে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা চলে আসার জন্য। সারাদেশেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ ছাড়া জনসমাবেশ ও বিয়ের অনুষ্ঠান বেড়েছে। সেখানে তারা মাস্ক পরছে না, মানা হচ্ছে না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব।

করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির সদস্য ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা প্রতিরোধে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এর জন্য সরকার থেকে জোরালো নির্দেশনা থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চিঠি দিয়ে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সারাদেশের সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।