মিঠামইন উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ১ ফুট পরিমাণ কমলেও দুর্ভোগ বন্যার্তদের পিছু ছাড়েনি। অনেকের বাড়ির উঠান থেকে পানি সরেনি। অনেকের বাড়িঘর এখনও ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। পানি সরতে আরও সময় লাগবে। 

এদিকে বন্যায় উপজেলার মৎস্য চাষিদের মাথায় হাত। এ উপজেলায় শনিবার পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বন্যার পানিতে ১৮০টির বেশি পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে পুকুরগুলোর মাছ ভেসে গেছে। পানি কমলেও অধিকাংশ পুকুরের পাড় এখনো তলিয়ে রয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, ৫৪ হেক্টর জায়গার পরিমাণ পুকুর এখনও পানির নিচে রয়েছে। 

মিঠামইন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ জানান, তলিয়ে যাওয়া পুকুরে ২৪০ মেট্রিক টন মাছের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এ সকল পুকুর থেকে ৩ লাখ পোনা মাছ ভেসে গেছে। এ ক্ষতি মৎস্য চাষিদের জন্য বড় একটা ক্ষতি। তারা মাছের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন না। অনেক মৎস্য চাষি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে মাছের চাষ শুরু করছিলেন।

অন্যদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবাহিত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সরজমিনে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দি মানুষজন জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কলাগাছের ভেলা দিয়ে অনেক দূর থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করছেন।

কেউ কেউ কলাগাছের ভেলা দিয়ে জরুরি কাজ সারছেন

ঘাগড়া ইউনিয়নের সাবাসপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতেই পানি। এ গ্রামে শুকনো কোনো জায়গা নেই। অধিকাংশ বাড়ি ২-৩ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ গ্রামের মানুষ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। গ্রামে যে কয়টি টিউবওয়েল রয়েছে তাও পানির নিচে। এই গ্রাম থেকে চারটি পরিবার ভরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তারা হলেন সিদ্দিক মিয়া, তার ভাই শহীদ মিয়া, নুর ইসলাম  ও আজগর। 

তারা জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে এ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তাদের বাড়িতে কোমর পানি। সামান্য ধান, চাল নিয়ে ধানের বস্তার ওপর শুয়ে কোনোরকম রাত কাটাচ্ছেন। চোর ডাকাতেরও ভয় রয়েছে। ১ সাপ্তাহ যাবৎ কোনো কাজ নাই। পরিবারের সদস্যরা জ্বর, কাশিতে ভুগছেন।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ভুইঁয়ার পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় ক্লিনিকে  স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে মেডিকেল টিমের সঙ্গে  যোগাযোগ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।  

মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আবদুল্লাহ আল সাফী বলেন, ৭ ইউনিয়নের জন্য ৩০ জন ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যেকোনো সময় দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার্তদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই।