কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সারা দেশের মতো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে যশোরেও। ছোট-বড় সবার মধ্যেই কাজ করছে উত্তেজনা। আনন্দ আয়োজনে ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানটি দেখে ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন যশোরের তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়ায় প্রায় দেড় শত মাইল দূরের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখে আনন্দে-আবেগে উদ্বেলিত হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাই।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া জাহান ঐশি বলে, স্কুলের মাঠে বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান। তাই স্যার ম্যাডামদের নিয়ে অনুষ্ঠান দেখছি।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুবাইয়া হক বলে, পদ্মাসেতু আমাদের অহংকার। দেশের টাকায় সবচেয়ে বড় একটি সেতু করতে পেরেছি আমরা। সেই সেতু উদ্বোধন হচ্ছে আজ। ঐতিহাসিক দিনে ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে পেরে ভালো লাগছে।

যশোর কালেক্টরেট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র নাজমুস সাকিব বলে, আমাদের বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ায় পদ্মাসেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখেছি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের দেখলাম। পদ্মাসেতু নিয়ে ডকুমেন্টটারিও দেখলাম। কিন্তু উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে পারলে ভালো লাগতো। মাল্টিমিডিয়ায় বা ইউটিউবে পদ্মা সেতু দেখে চোখের ক্ষুধা বা মনের ক্ষুধা মেটেনি। বরং আরও ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছে। আম্মু বলেছে সামনের মাসে স্বপরিবারে পদ্মাসেতুসহ পদ্মার পাড় ঘুরতে যাবে।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গুলসানা আরা বেগম বলেন, পদ্মাসেতু বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের ডানা মেলেছে। যার উদ্বোধন করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা সেই ঐতিহাসিক সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকলাম। পদ্মাসেতু শুধু এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করলো না। একই সঙ্গে মানুষের ভাগ্যও পরিবর্তন হবে। অনেক সময় চাকরি পরীক্ষার জন্য এই অঞ্চলের শিক্ষার্থী-যুবকদের নানা বিড়ম্বনার পড়তে হয়। এখন দ্রুত ৪-৫ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে পরীক্ষা দিয়ে যশোরে ফিরতে পারবে।

যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আজম বলেন, যশোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে। জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্কুল মিলে মোট এক হাজারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছর। প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেলিভিশন কিংবা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রদর্শন করা হয়েছে।