পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে নতুন বিনিয়োগ ধারণ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে গোপালগঞ্জকে। এখানে ৫০ একর জায়গায় নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে বিসিক শিল্পনগরী। যেখানে আছে ১৩৮টি শিল্প প্লট। এই শিল্পনগরীর প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) গৌরব দাস সমকালকে বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে পুরো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে গেল। এই সুবিধার ফলে এখন গোপালগঞ্জকে ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন শিল্পনগরী করা হয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ পাওয়ার আবেদন করেছে।

জানা গেছে, শহরের কাছাকাছি হরিদাসপুরে ৫০ একর জায়গার ওপর ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী করা হয়েছে। এখানে ১৩৮টি শিল্প প্লট রয়েছে। এরই মধ্যে হ্যামকো, মজুমদার গ্রুপসহ ছোট-বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। শিল্পনগরীর মধ্যে সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন, ড্রেনেজসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ একর প্লট বরাদ্দ হয়েছে। এই শিল্পনগরীতে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আশা করছেন সংশ্নিষ্টরা। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের দৈনিক ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়ে যাবে।

গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো প্রস্তুত। সেই সঙ্গে সহজলভ্য শ্রমিক পাবেন উদ্যোক্তারা। ফলে এসব সুযোগ-সুবিধার ফলে নতুন শিল্প হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। নতুন শিল্প হবে। কৃষি খাত আরও গতিশীল হবে। কারণ কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো যাবে। আবার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা যে ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাতে আশা করা হচ্ছে আগামীতে গোপালগঞ্জে কমপক্ষে ২০০ শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।

গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে গোপালগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসার লাভ করবে। নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠবে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে বহু গুণে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এখানে বিদ্যুতের দুটি পাওয়ার প্লান্ট করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। পাওয়ার প্লান্ট দুটিতে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।