ঢাকার ধামরাই উপজেলার বংশী নদী থেকে বালু তোলায় ক্ষতির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ। প্রভাবশালী মহল এতে জড়িত বলে অভিযোগ তাঁদের। যে কারণে বারবার অভিযোগ করার পরও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, আর জনসাধারণ হারাচ্ছে জমি-ঘরবাড়ি।
সরেজমিন শনিবার বালিয়া ও চর চৌহাট গ্রামে দেখা গেছে, ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার দৃশ্য। নদীর উত্তর পাশে চৌহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প ও দক্ষিণ পাশে বালিয়া ওদুদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়। এর মাঝের এলাকায় তিনটি ড্রেজার দেখা যায়।
চর চৌহাট গ্রামের আরফান আলীর দাবি, বংশী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি হারিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত অর্ধশত গাছ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'কয়েকদিন আগেও মোবাইল ফোনে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।'
এর আগেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন আরফান আলী। তাঁর প্রতিবেশী কৃষক খোকন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হালিমের জমিও নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। সরেজমিন চর চৌহাটের বংশী নদীতে বালু তুলতে দেখা যায় বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত নারী সদস্য শাম্মী আক্তারের স্বামী বনেরচর (বাস্তা) গ্রামের ইমরান হোসেনকে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই বালু তুলছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পানকাত্তা এলাকায় বালু তোলায় জড়িত কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য লিটন মিয়াসহ প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি। এ ছাড়া কুশুরা, হাট কুশুরা, পানকাত্তা, পাড়াগ্রাম, আমছিমুর, বাস্তা, গাওতারা, আমতা, জেঠাইল, বালিয়া ও দ্বিতীয় মহিষাশী এলাকায়ও অন্তত অর্ধশতাধিক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলতে দেখা যায়। অবাধে বালু তোলার কারণে নদী-তীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বালিয়া-চৌহাট ও মহিষাশীর সেতু, পানকাত্তা গোরস্তানসহ বহু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
কুশুরা এলাকার শিক্ষক আলাউদ্দিন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাসেম অভিযোগ করেন, পানকাত্তা এলাকায় তাদের কৃষিজমির পাশ থেকে নদীর বালু তুলছেন ইউপি সদস্য লিটন মিয়াসহ কয়েক ব্যক্তি। এতে তাঁদের জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে কয়েক দফায় লিখিত অভিযোগও দিয়েও সমাধান মেলেনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো মামলা করে না। যে কারণে অবাধে বালু তোলা বন্ধ হচ্ছে না। তবে ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বংশী নদীতে স্থাপিত অবৈধ ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়। এবার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন তিনি।

বিষয় : বংশীর বালু

মন্তব্য করুন