আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কলেজছাত্র আসাদুল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। আসাদুলের বাবা মঞ্জিল মিয়া তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। আসাদুলের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপাশা গ্রামে।

পূর্বশত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনায় গত ১৮ জুন বিকেলে প্রতিবেশী নবী নেওয়াজ ও তার চার ছেলে সুজন মিয়া (৩০), রিপন মিয়া (২৬), রুবেল মিয়া (২৪) ও জুনাঈদ মিয়া (১৮) মিলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আসাদুলের (২৪) ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এবং তার এক ছোটভাইকে দা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে আসাদুলের মাথা ও শরীর মারাত্মকভাবে জখম হয়। মাথা থেকে মগজ বেরিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে নান্দাইল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুমূর্ষু আসাদুলকে ওইদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার মগজ রাখা হয় সাভারস্থ ইনস্টিটিউট অব টিস্যু ব্যাংকিংয়ে ।সুস্থ হওয়ার পর সেটি মাথায় প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল। আসাদুলের মাথায় ৪৪টি সেলাই দিয়ে ব্যান্ডেজ করে তার ওপর চিকিৎসকরা লিখে রেখেছিলেন- ‘হাড় নেই, চাপ দিবেন না’। এত কিছুর পরও বাঁচানো যায়নি তাকে।

অন্যদিকে তার ছোটভাই মাসুদ মিয়া (১৮) ঘাড়ে দায়ের কোপ খেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার ঘটনায় গত ২৩ জুন আসাদুলের বাবা মঞ্জিল মিয়া বাদী হয়ে সাতজনকে অভিযুক্ত করে নান্দাইল থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ রুবেল মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার সকালে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মঞ্জিল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার নিষ্পাপ ছেলেটাকে ওরা বিনা দোষে মেরে ফেললো, তার লাশ নিয়ে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।'

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন যেহেতু আসাদুল মারা গেছেন তাই এবার মামলাটি হত্যার মামলায় পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন সমকালের অনলাইনে ও ২২ জুন সমকালের শেষ পাতায় ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।