'প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পার হতে পেরে আমি গর্বিত। কারণ আমি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে রইলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদেক্ষেপে নিজম্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মিত হয়েছে। আমাদের এলাকার সাহসী বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার জন্য আমরা গর্ববোধ করি।' উচ্ছ্বসিত স্বরে কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রী ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের আবুল হাসান মোল্লা (৬০)। তার ভাষায়, প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পার হওয়ার আনন্দটাই আলাদা।   

শুধু আবুল হাসান মোল্লা নয়, প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পার হয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে রইলেন গোপালগঞ্জের অনেকেই। রোববার প্রথমবারের মতো স্বপ্নের পদ্মা সেতু পার হতে পেরে তারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বাস পদ্মা সেতুতে ওঠার পর এদিন যাত্রীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। সবাই আগ্রহভরে পদ্মা সেতুর সাজ-সজ্জা প্রত্যক্ষ করেন। দৃষ্টিনন্দন এই পদ্মা সেতু জন্য তারা সেতুর রূপকার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের অপর যাত্রী পাটগাতী গ্রামের মালেক সরদার (৫৮) বলেন,৮৪ সালে লঞ্চে  ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া আসতে দুই দিন লেগে যেত। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে পশ্চাদপদ টুঙ্গিপাড়ার সাথে ঢাকার সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তারপর তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। আমি প্রথম দিনই পদ্মা সেতু পার হয়ে বাড়ি এসেছি। এই আনন্দটাই আলাদা।

দোলা পরিবহনের সুপার ভাইজার রিয়াজ আহম্মেদ জানান, ভোর ৫ টায় ঢাকার গুলিস্থান থেকে গাড়ি ছেড়েছেন।  প্রথম দিন পদ্মাসেতু দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল। এ কারণে সেখানে যানযটের সৃষ্টি হয়। অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ আজ অনেক বেশি ছিল। পদ্মা সেতুতে গাড়ি ওঠার সাথে সাথে বাসের যাত্রীরা সেই কষ্ট ভুলে গেছেন। তারা  অপলক দৃষ্টিতে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। তার ভাষায়, পদ্মা সেতু দিয়ে যাত্রীরা সহজেই কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। এতে দুর্ভোগ কমবে।

টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চালক ইমু শেখ বলেন, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় আমাদের আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপরও যাত্রীরা বিরক্ত হননি। যখনই গাড়ি পদ্মা সেতুতে উঠেছে তখনই যাত্রীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।

গোপালগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্ম পরিচয়। আজ সেতু এলাকায় যানজট ছিল। সেখানে আড়াই ঘণ্টা বসে ছিলাম। গাড়ি পদ্মা সেতুতে ওঠার পর আনন্দে-গর্বে বুক ভরে গেছে। গাড়িতে জার্নি করেছি মাত্র ২ ঘন্টা। আর পদ্মা সেতুর টোল এলাকায় বসে ছিলাম আড়াই ঘন্টা। এ কারণে সময় একটু বেশি লেগেছে। সেতু এলাকায় যানজট না থাকলে দ্রুত  পৌঁছতে পারতাম।  

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পদ্মা সেতু। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু করেছেন। তিনি এটি করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন আমারা বীরের জাতি। এ সেতুকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে শিল্প, কলকারখানা ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। দেশের মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজে যাতায়াত করতে পারবে।