সহিংসতার শিকার নারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও এর সংশোধন ২০০৩ আইনে সর্বমোট ৩৪টি ধারায় নারী ও শিশুর উপর সংঘটিত ১১ ধরনের অপরাধের বিচারের বিষয় উল্লেখও করা হয়েছে। অথচ আইনের যথাযথ প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীরা আইনি অধিকার পাওয়ার অভিগম্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নারীপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তারা। 

তারা বলেছেন, আইনটি নারীবান্ধব করতে হবে। এজন্য আইনের কাঠামোকে তিনটি আঙ্গিকে পর্যালোচনা করে সীমাবদ্ধতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার ধানমন্ডিস্থ নাসরীন হক সভাকক্ষে 'নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প' শীর্ষক পলিসি ব্রিফ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। নারীপক্ষের সদস্য ও প্রকল্প সম্পাদক রীনা রায়ের সঞ্চলনায় আলোচনায় অংশ নেন নারীপক্ষের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউ এম হাবিবুন নেসা, অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আখতার, ফরিদা ইয়াছমিন, রওশন আরা প্রমুখ।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার। তিনি বলেন, শাস্তি দিয়েই অপরাধ দমন করা যাবে না। আইনের বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতা, আইনের প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা এবং আইন বাস্তবায়নকারী ব্যক্তিদের সীমাবদ্ধতা (দৃষ্টিভঙ্গী ও আচরণগত) এবং সুপারিশ উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীতে ২০২১ সালে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণজনিত ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অপরাধে মামলা হয়েছে ২ হাজার ১০৫টি, যা ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ২২৬টি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নের জন্যও পদক্ষেপ নিতে হবে।

রওশন আরা বলেন, সহিংসতার শিকার নারী মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এবং সামাজিক চাপে আপোষ করতে বাধ্য হয়।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে হাবিবুন নেসা বলেন, ভুক্তভোগী নারীর বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সহিংসতার শিকার নারীর বিচার পাওযার অভিগম্যতায় আমাদের আরও কাজ করতে, থেমে থাকলে চলবে না।

রীনা রায় বলেন, এই পলিসি ব্রিফ আমরা মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দিব। সাংবাদিকদের আরও বেশি সক্রিয় থাকা এবং প্রচার করতে হবে। যা সরকারের সঙ্গে এডভোকেসিতে সহায়তা করবে।