বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কুলাউড়া-বড়লেখা সড়ক। ওই সড়কের ৪২ কিলোমিটার অংশে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন।

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা রোববার সরেজমিনে পরিদর্শনে যান সওজের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান।

পরে তিনি জানান, মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে। কিন্তু বড়লেখা, কুলাউড়ার কোনো উন্নতি নেই। কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের ৪২ কিলোমিটারের বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। 

বিভিন্ন স্থানে সড়কে এক দেড় থেকে দুই ফুট পানি থাকায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচাল করতে পারছে না। এতে অটোরিকশা, টেম্পু, ইজিবাইক শ্রমিকরা গত ৭ দিন বেকার হয়ে রয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ-সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন জানান, বিকল্প সড়ক না থাকায় জলমগ্ন সড়ক ব্যবহার করে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক চলাচল করায় রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানিতে কুলাউড়া-বড়লেখার ৫৪ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৪২ কিলোমিটার অংশে যদি তিনটি স্তর নষ্ট হয়ে যায় তবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পানি কমলে রাস্তা মেরামতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। 

গত ১৬ জুন থেকে হাকালুকি হাওরে পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। তিন দিনের মধ্যে কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কে ভুঁয়াই, জুড়ী বাজার পয়েন্ট, উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থান জলমগ্ন হয়ে পড়ে। 

এর প্রভাব পড়ে কুলাউড়ার আবুতালিপুর, জুড়ীর, জায়ফরনগর, বেলাগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কে। 

কুলাউড়ার আবুতালিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সমকাল সুহুদ সমাবেশ জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রনি পাল জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবুতালিপুর, আশুরীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ডুবে সাধারণ মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। 

জুড়ীর ভোগতেরা গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হাসান রাজু জানান, হাকালুকি পাড়ের বেলাগাঁও, শাহাপুর, নয়াগ্রাম জাঙ্গীরাই, নিশ্চিন্তপুর, জায়ফুরনগর, ভুঁয়াইসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।