সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন সমন্বিত উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাবিতে ‘বন্যার্তদের জন্য কনসার্টের’ আয়োজন করা হয়েছে। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ টাকা যাবে বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতায়। 

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের' উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা জানান, আগামী ২৭ এবং ২৮ জুন ২০২২ দেশের বিখ্যাত সব ব্যান্ড দল  নিয়ে টিএসসির সবুজ চত্বরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বন্যার্তদের জন্য কনসার্ট’। 

এই কনসার্টে ওয়ারফেইজ, আর্ক, অ্যাশেজ, ভাইকিং, সোনার বাংলা সার্কাস, সহজিয়া সহ আরও অনেক ব্যান্ড দল থাকছে তাদের পরিবেশনা নিয়ে। 

এই উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। 

এই কনসার্টের এন্ট্রি ফি থাকবে ৩০০ টাকা। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত সকল অর্থ ব্যয় করা হবে বন্যার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রয়াসে। 

তারা জানান, এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বন্যার্তদের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন’। এরই লক্ষ্যে গত ২১ জুন অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। 

এ উদ্যোগের সুষ্ঠু সমন্বয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কক্ষে একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। টিএসসির পায়রা চত্বরে ‘উন্মুক্ত মঞ্চ’ স্থাপন করা হচ্ছে।

ইতোপূর্বে গত বৃহস্পতিবার রাতে টিএসসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের অংশগ্রহণে আরেকটি সভা হয়। সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সভায় কমিটি গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

কমিটিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য গোলাম কুদ্দুছকে আহ্বায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসকে সদস্য সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়াকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।

এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সভাপতি দিগার মোহাম্মদ কৌশিক, স্লোগান’৭১ এর সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন হাসান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদের সভাপতি আরাফাত আরেফিন উৎস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক জয় দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিমু পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক তুষার চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটির সভাপতি মাহমুদা কবির শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সভাপতি মো. নাজমুস সাকিব, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটির অর্থ সম্পাদক শিবলী হাসান জয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম রুবেল।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোগের সদস্য সচিব অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ত্রাণ শব্দটা আমাদের পাল্টাতে হবে। জনগণের টাকায় দেশ চলে। জনগনের টাকাতেই আমাদের বেতন হয়, আমরা হলে থাকতে পারি। এখানে সুনামগঞ্জের মানুষসহ সবার টাকা আছে। তাদের একটা অংশ বিপদে পড়েছে। তাদের টাকায় তাদের সহযোগিতা করতে হবে। এটা করুণা বা দয় নয়, এটা তাদের অধিকার। কাজেই ত্রাণ শব্দটা বাদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল শক্তি কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরা। আমরা তাদের সহায়তা করছি এবং পরামর্শ দিচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সংকটে সবার পাশে দাঁড়িয়েছে। এখনও আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আলী আকবর বলেন, দেশের বিপর্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় পাশে ছিল। এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের সবার এই উদ্যোগ। আমাদের একটা কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। কনসার্টের টাকা বন্যা দুর্গতদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এছাড়াও একটা ব্যাংক একাউন্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সকলের সহযোগিতায় প্রাপ্ত অর্থ বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতায় ব্যয় করা হবে।

কোন কোন এলাকায় সহযোগিতা করা হবে এবং এ পর্যন্ত ফান্ডিংয়ের অবস্থা কেমন জানতে চাওয়া হলে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি সেখানে। আমরা প্রতিনিয়ত খবর নিচ্ছি। যেখানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খবর পাব, সেখানেই আমরা আগে পৌঁছাব। ইতোমধ্যে অনন্ত জলিল ও বর্ষা ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা দিয়েছে। এছাড়া আরও ৪ জন ৪ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সকল ছাত্ররা বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক আয়োজনে যে গণ কালেকশন করেছে তার মাধ্যমে ১ লাখ টাকা মতো ফান্ডিং হয়েছে। সব মিলিয়ে ইতোমধ্যে ১১ লাখ টাকার মতো আমাদের হয়েছ। আমরা আশা করছি নিঃসন্দেহে এটি আরও বাড়বে।