পদ্মা সেতুতে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য সহকর্মীদের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও এ ব্যাপারে ভয়ের কথা জানালেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। রোববার সংসদে বক্তব্য রাখার সময় ওই কথা জানান তিনি।   

এর আগে আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য শাজাহান খান বিএনপির নেতাকর্মীদের সেতুতে না ওঠার পরামর্শ দেন। 

একদিকে আমন্ত্রণ, অন্যদিকে নিষেধ এ নিয়ে ‘ভয়ের মধ্যে রয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন হারুনুর রশীদ। এসময় সংসদের বৈঠকে অনেক সদস্যকে হাসাহাসি করতে দেখা যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বক্তা হারুনুর রশীদও হাসতে থাকেন। 

সংসদের বৈঠকে স্পিকারের আসনে এসময় ছিলেন প্যানেল স্পিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম। 

হারুনের উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি সর্বোচ্চ ব্যক্তির (প্রধানমন্ত্রীর) দাওয়াত গ্রহণ করবেন।’ 

সংসদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্রিজের উদ্বোধনে দাওয়াত দিলেন। কাজী ফিরোজ রশীদ ও নিক্সন চৌধুরীও আমাকে দাওয়াত দিলেন। আজকে শাজাহান খান বলেছেন পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত দিচ্ছেন আর একজন সদস্য বলছেন পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। আমরা কী করব ‘ 

তিনি বলেন, ‘একজন দাওয়াত দেবেন, ওদিকে আরেকজন ভয় দেখাবেন, আমিতো আতঙ্কে আছি যে পার হতে গিয়ে আমাকে পদ্মাতে ডুবিয়ে দেবে কিনা, ফেলে দেবে কিনা!’ 

হারুন বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করেছি। এটা আমাদের গৌরব। এটা নিয়ে তীর্যক কথাবার্তা হচ্ছে। যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির মন খারাপ। না, আমাদের মন খারাপ নয়। আমাদের মন কেন খারাপ হবে। আমরা আনন্দে আছি। আমাদের মন খারাপ হচ্ছে, আমরা মুজিববর্ষ পালন করলাম, আমরা পদ্মা ব্রিজ উদ্বোধন করলাম কিন্তু আমরা বাংলাদেশে যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে এখান থেকে বের হতে পারব? আমরা ভোটের অধিকার যে হারিয়ে ফেলেছি সেটা কি আমরা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারব?’ 

এসব বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এদিকে নজর দেন। আপনি যতই বলেন না কেন… মানুষ এখন দ্রব্যমূল্যের যে মহা ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি দিতে হবে। আপনি যতই মানুষকে পদ্মা ব্রিজের স্বপ্ন দেখান আর মেট্রোরেলের স্বপ্ন দেখান আর মহা প্রকল্প দেখান মানুষের পেটে খাদ্য চায়। মানুষ আজকে দুর্বিসহ অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় মানুষ বাঁচতে চায়। বাঁচার জন্য তাদের অর্থ দরকার। এ অর্থ তারা চায়।’

হারুন বলেন, ‘জাতীয় সংসদ এখন মহাজোটের জাতীয় কার্যালয় হয়ে গেছে। শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া একটা জবাবাদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা যায় না।’ 

তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন এখন আওয়ামী প্রশাসন হয়েছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। সারাক্ষণ পলিটিক্যাল কাজ নিয়ে তারা ব্যস্ত। জেলায় দুজন ডিসি নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একজন হবেন ডিসি অ্যাডমিন আর একজন হবেন ডিসি পলিটিক্যাল।’

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এই বাজেট ব্যাপক ঋণনির্ভর। ৪০ শতাংশ আসবে দেশি বিদেশি ঋণ থেকে। এর মধ্যে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ। বাজেট আবার বৈদেশিক ঋণনির্ভর বাজেটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ 

বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে হারুন বলেন, ‘এই সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না। এটি কার্যকর করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে। এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করতেই হবে।’

শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে হারুন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা খারাপ। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ৩০ শতাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম নেই। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার অবস্থা ভয়াবহ।’ 

তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।